নিজস্ব প্রতিনিধিঃ আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে গণসংহতি আন্দোলন মনোনীত সাতক্ষীরা -৪ (শ্যামনগর) আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী আলফাত হোসেন এলাকার দীর্ঘদিনের সংকট নিরসন ও সামগ্রিক উন্নয়নের লক্ষ্যে ১২ দফা দাবি ঘোষণা করেছেন। তিনি বলেন, এসব দাবি শুধু আমার ব্যক্তিগত প্রস্তাব নয়-এগুলো জনগণের অধিকার, জনগণের জীবন-সংকট থেকে উঠে আসা বাস্তব দাবি।ঘোষিত ১২ দফা দাবিগুলো হলো-
১.সাতক্ষীরা–ভেটখালী-মুন্সিগঞ্জ সড়ক উন্নয়ন: দ্রুত কাজ শেষ করে জনচলাচলের উপযোগী করা এবং মুন্সিগঞ্জ পর্যন্ত রেললাইন নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ।
২.সুন্দরবন নিরাপত্তা ও বনজীবী সুরক্ষা: জলদস্যু দমন, বন নিরাপত্তা জোরদার, এবং বনজীবীদের ওপর প্রশাসনিক জুলুম-নির্যাতন বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ।
৩.জনগণের মতামতের ভিত্তিতে আইন প্রণয়ন: প্রত্যেক এলাকায় গিয়ে সাধারণ মানুষের মতামত সংগ্রহ করে জাতীয় সংসদে জনগণের দাবিগুলো উপস্থাপন জরুরি।
৪. স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে উপকূলের মানুষের জীবন-জীবিকার স্থায়ী সুরক্ষা নিশ্চিত করা।
৫. দুর্নীতি ও অনিয়মমুক্ত প্রশাসন: ঘুষবিহীন সেবা নিশ্চিত করা এবং প্রশাসনের অনিয়ম ও দুর্নীতি নির্মূলে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ।
৬. স্থানীয় কৃষির ওপর ভিত্তি করে শিল্প-কারখানা স্থাপন এবং ব্যাপক কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা।
৭. কৃষিপণ্যের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা এবং কৃষকের উদ্ভাবিত নতুন জাতের ফসলের জাতীয় স্বীকৃতি প্রদান।
৮.সুপেয় নিরাপদ খাওয়ার পানির উৎস চিহ্নিতকরণ এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে নিরাপদ পানির সরবরাহ বৃদ্ধি।
৯.লোনা পানির কারণে সৃষ্ট স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে নারীর গর্ভধারণ জটিলতা-নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ।
১০.হাতের কাছে ইউনিয়ন পর্যায়ে সক্রিয় ও কার্যকর কমিউনিটি হাসপাতাল উন্নয়ন।
১১. শত শত কিলোমিটার কাঁচা রাস্তা পাকা করার উদ্যোগ গ্রহণ।
১২. মাদক সরবরাহের সঙ্গে জড়িতদের সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে প্রতিরোধে শক্তিশালী ব্যবস্থা গ্রহণ।
১২ দফা ঘোষণা শেষে আলফাত হোসেন দৈনিক আজকের সাতক্ষীরা দর্পণ এর প্রতিনিধিকে বলেন, উপকূলীয় এলাকার সুন্দরবন অঞ্চলে আমরা বহু সংকটের মুখে থাকি। আমি যে ১২টি বিষয় চিহ্নিত করেছি-আপনারা নিশ্চয় আরও সমস্যা নিয়মিত মোকাবিলা করেন। ভবিষ্যতে সেগুলো নিয়েও কাজ করব। আমি এই এলাকার সন্তান হিসেবে এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার প্রতিষ্ঠার দায়িত্ব থেকে বলছি। এসব দাবি আদায়ে আমি ও আমার দল সর্বোচ্চ লড়াই চালিয়ে যাব। জনগণের দাবি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা আমাদের রয়েছে। সরকার কিভাবে এই জনগোষ্ঠীর অধিকার প্রতিষ্ঠার দায়িত্ব থেকে বলছি, এসব দাবি আদায়ে আমি ও আমার দল সর্বোচ্চ লড়াই চালিয়ে যাব। জনগণের দাবি আদায়ে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা আমাদের রয়েছে। সরকার কীভাবে এসব সংকট নিরসনে কাজ করতে পারে, তার প্রক্রিয়াও আমরা তুলে ধরব। আর যদি আমরা ক্ষমতায় যাই, কিভাবে এগুলো বাস্তবায়ন করব তাও এলাকাবাসীর সামনে তুলে ধরা হবে।
Leave a Reply