সাতক্ষীরাতে দলিল লেখকের ভুলে নিঃস্ব কৃষক: দায় নেবে কে?


আজকের সাতক্ষীরা দর্পণ ডেস্ক:  ভূমি রেজিস্ট্রি অফিস মানেই সাধারণ মানুষের কাছে এক গোলকধাঁধার নাম। আইনি ভাষার জটিলতা আর দলিলে সংখ্যার মারপ্যাঁচে পড়ে অনেক শিক্ষিত মানুষও সেখানে অসহায় বোধ করেন। এই সুযোগে কিছু দলিল লেখক বা মুহুরির অসতর্কতা ও অজ্ঞতায় প্রতিনিয়ত নিঃস্ব হচ্ছেন সাধারণ ক্রেতারা। সাতক্ষীরার ভাটপাড়া গ্রামের কৃষক ইমাদুল সানার গল্পটি তেমনই এক চরম গাফিলতির উদাহরণ।
সম্প্রতি ইমাদুল সানা ১১ দশমিক ৭৯ শতক জমি কেনার সিদ্ধান্ত নেন। জমিজমার হিসাব সম্পর্কে ধারণা না থাকায় তিনি পুরোপুরি ভরসা করেছিলেন রেজিস্ট্রি অফিসের নির্ধারিত মুহুরির ওপর। দলিলে জমির পরিমাণ ১১ দশমিক ৭৯ শতকই লেখা হয়। কিন্তু বিপত্তি ঘটে মিউটেশন বা নামজারি করতে গিয়ে। সেখানে দেখা যায়, বিক্রেতার খতিয়ানে জমি আছে মাত্র ১ দশমিক ১৭৯ শতক। অর্থাৎ, মুহুরির কলমের খোঁচায় দশমিকের এদিক-ওদিকে ইমাদুলের কেনা জমির একটি বড় অংশই এখন অস্তিত্বহীন। এখন এই ভুল সংশোধনের জন্য তাঁকে হয় নতুন করে দলিল করতে হবে, না হয় আইনি লড়াইয়ে নামতে হবে। যার অর্থ—একই জমির পেছনে তাঁকে দ্বিগুণ অর্থ ব্যয় ও সীমাহীন হয়রানি পোহাতে হচ্ছে। অথচ এই ভুলের পেছনে ইমাদুল বা বিক্রেতার কোনো দায় নেই; দায়টি সম্পূর্ণভাবে সংশ্লিষ্ট দলিল লেখকের।
ইমাদুল সানার ঘটনাটি কোনো বিচ্ছিন্ন বিষয় নয়। সারা দেশেই জমির দাগ নম্বর ভুল করা, পরিমাণে গরমিল বা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বাদ পড়া এখন নিয়মিত চিত্র। সাধারণ মানুষ বিশেষজ্ঞ মনে করে যাদের ওপর আস্থা রাখেন, সেই মুহুরিদের ভুলের খেসারত দিতে হচ্ছে ক্রেতাদের জীবনের সঞ্চয় দিয়ে।
ভুক্তভোগী ও সচেতন নাগরিকদের মতে, এই অব্যবস্থাপনার প্রধান কারণ জবাবদিহিতার অভাব। বর্তমানে কোনো মুহুরি ভুল করলে তার জন্য তাঁকে কোনো শাস্তির মুখোমুখি হতে হয় না। দাবি উঠেছে, দলিল লেখকের অবহেলায় ভুল হলে তার সম্পূর্ণ দায়ভার সংশ্লিষ্ট মুহুরিকেই নিতে হবে এবং নিজ খরচে তা সংশোধন করে দেওয়ার আইনি বাধ্যবাধকতা থাকতে হবে। পাশাপাশি মুহুরিদের লাইসেন্স প্রদানের ক্ষেত্রে কঠোর যোগ্যতামান নির্ধারণের দাবিও জোরালো হচ্ছে।
ভূমি মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ভুক্তভোগীদের প্রশ্ন একটাই একজন মুহুরির অসতর্কতায় যদি সাধারণ মানুষের তিল তিল করে জমানো টাকায় কেনা জমি মূল্যহীন হয়ে যায়, তবে রাষ্ট্র কি কেবল নীরব দর্শক হয়েই থাকবে? এই অরাজকতা বন্ধে এখনই কার্যকর সংস্কার প্রয়োজন।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *