সাতক্ষীরায় হাবিবুল ইসলাম হাবিবকে টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী করার দাবি


সাতক্ষীরা প্রতিনিধি: সাম্প্রতিক জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সরকার গঠন করেছে এবং দলীয় প্রধান তারেক রহমান দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। এমন প্রেক্ষাপটে সাতক্ষীরায় জোরালোভাবে উঠেছে একটি বিশেষ দাবি। জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও কেন্দ্রীয় প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক হাবিবুল ইসলাম হাবিব-কে টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী হিসেবে দেখতে চান জেলার নেতাকর্মী, সমর্থক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
জেলার বিভিন্ন উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা বলেন, দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং তৃণমূলভিত্তিক জনপ্রিয়তার কারণে হাবিবুল ইসলাম হাবিব জাতীয় পর্যায়ে দায়িত্ব পালনের যোগ্য নেতা। তারা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, সাতক্ষীরাবাসীর এই প্রত্যাশা গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা হোক।
হাবিবুল ইসলাম হাবিব ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। ১৯৮৩ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-এর পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হন। নব্বইয়ের দশকে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। ছাত্রদলের রাজনীতিতে যুক্ত থেকে ডাকসু নির্বাচনে বিজ্ঞান বিষয়ক সম্পাদক নির্বাচিত হন এবং ফজলুল হক হল-এর ভিপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বলে দলীয় সূত্রে জানা যায়। এরশাদবিরোধী আন্দোলনসহ বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনে তার সক্রিয় অংশগ্রহণ তাকে তৃণমূল পর্যায়ে সুপরিচিত নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।
১৯৯৬ সালে তিনি ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন এবং ২০০১ সালে সাতক্ষীরা-১ (তালা-কলারোয়া) আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। সংসদ সদস্য থাকাকালীন সময়ে তালা ও কলারোয়ায় একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তকরণ, রাস্তাঘাট উন্নয়ন, সেতু নির্মাণ ও গ্রামীণ অবকাঠামো সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। একই সময়ে পাটকেলঘাটাকে থানা হিসেবে রূপান্তরের প্রক্রিয়ায় তার ভূমিকা উল্লেখযোগ্য বলে নেতাকর্মীরা দাবি করেন। বর্তমানে পাটকেলঘাটাকে পূর্ণাঙ্গ উপজেলা হিসেবে বাস্তবায়নের দাবিতেও তিনি সক্রিয়ভাবে কাজ করছেন।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে অংশগ্রহণ করেন। তবে নেতাকর্মীদের দাবি, ওই নির্বাচনে ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’-এর মাধ্যমে ফলাফল প্রভাবিত করা হয় এবং সে কারণে তিনি পরাজিত হন। এ বিষয়ে তালা ও কলারোয়া উপজেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ পৃথক সংবাদ সম্মেলন করে নির্বাচনে অনিয়ম, কারচুপি ও ফলাফল ব্যবস্থাপনার অভিযোগ উত্থাপন করেন। যদিও নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি, তবুও বিষয়টি স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে।
দলীয় নেতারা আরও বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তিনি একাধিক হামলা ও রাজনৈতিক মামলার শিকার হন। তার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় মোট সত্তর বছরের কারাদণ্ড প্রদান করা হয় এবং তিনি প্রায় চার বছর কারাভোগ করেন। ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মাধ্যমে স্বৈরাচারমুক্ত পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে এবং পরবর্তীতে উচ্চ আদালতের রায়ে তিনি মুক্তি পান। দীর্ঘ কারাবাস ও প্রতিকূল রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যেও তিনি সংগঠন ও নেতাকর্মীদের পাশে থেকে দলকে সুসংগঠিত রাখেন।
নেতাকর্মীদের দাবি, বর্তমানে সাতক্ষীরা জেলায় বিএনপির নেতৃত্বে চারটি সংসদীয় আসন পরাজিত হয়েছে এবং কোনো মন্ত্রী নেই। ফলে জেলার উন্নয়ন, প্রশাসনিক সমন্বয় ও নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে একজন অভিজ্ঞ নেতাকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন। তারা মনে করেন, হাবিবুল ইসলাম হাবিবকে টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী করা হলে সাতক্ষীরার উন্নয়ন কার্যক্রম আরও বেগবান হবে এবং জাতীয় পর্যায়ে জেলার প্রতিনিধিত্ব শক্তিশালী হবে।
সাতক্ষীরার সর্বস্তরের মানুষের প্রত্যাশা, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জেলার এই বিশেষ দাবি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে হাবিবুল ইসলাম হাবিবকে টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করবেন।

,

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *