জি এম রাজু আহমেদ নিজস্ব প্রতিনিধি: ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলার রায়কে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের ডাকা লকডাউন কর্মসূচির প্রতিবাদে সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলা বিএনপির উদ্যোগে বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) সকালে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
অন্যদিকে, বিকেল সাড়ে ৪টায় উপজেলা ডাকবাংলা মোড়ে অবস্থিত বিএনপির কার্যালয়ের সামনে অধ্যাপক ডাঃ শহিদুল আলমের মনোনয়নের দাবিতে হাজারো নেতা কর্মী ও সমর্থকরা অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন।
দিনের প্রথমভাগে সকাল ১০টার দিকে উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল উপজেলার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে দলীয় কার্যালয়ের সামনে এসে সমাবেশে রূপ নেয়।
প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তারা বলেন, আওয়ামী ফ্যাসিস্ট লীগের ঘোষিত লকডাউনের নামে সৃষ্ট অরাজকতা ও নৈরাজ্য কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না। তারা এই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডকে কঠোর হাতে প্রতিহত করার ঘোষণা দেন।
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সদস্য শেখ নুরুজ্জামান, উপজেলা বিএনপির সাবেক ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক ও বিষ্ণুপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক আলাউদ্দিন সোহেল, স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক সেলিম আহমেদ, উপজেলা বিএনপির সাবেক স্বনির্ভর বিষয়ক সম্পাদক এস. এম. হাফিজুর রহমান বাবু, ছাত্রদলের সদস্য সচিব শেখ পারভেজ ইসলাম এবং উপজেলা জাসাসের সদস্য সচিব মারুফ বিল্লাহ প্রমুখ। গত ২ নভেম্বর বিএনপির দলীয় মনোনয়ন ঘোষণায় সাতক্ষীরা-৩ (কালিগঞ্জ–আশাশুনি) আসনে ধানের শীষের প্রার্থী হিসেবে সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ্ব কাজী মোঃ আলাউদ্দিনের নাম ঘোষণা করা হয়। ওই ঘোষণার পরপরই তার মনোনয়ন বাতিল করে ডাঃ শহিদুল আলমকে প্রার্থী করার দাবিতে তাৎক্ষণিক বিক্ষোভ ও প্রতিবাদে নামে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা।
এরপর থেকে গতকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত টানা ১১ দিন ধরে কালিগঞ্জ ও আশাশুনি উপজেলা বিএনপির নেতা–কর্মী, সমর্থক এবং সাধারণ জনগণ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছেন। বৃহস্পতিবারের অবস্থান কর্মসূচি ছিল সেই ধারাবাহিক আন্দোলনের অংশ। বক্তারা অভিযোগ করেন, সদ্য ধানের শীষের মনোনয়নপ্রাপ্ত কাজী আলাউদ্দিন প্রকৃত অর্থে বিএনপির যোগ্য প্রার্থী নন। ২০০১ সালে তিনি জাতীয় পার্টির ‘নাফি গ্রুপ’ থেকে জোটের শরিক হিসেবে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। আওয়ামী ফ্যাসিবাদী সরকারের জুলুম-নির্যাতনের সময় তিনি এলাকার নেতাকর্মীদের পাশে ছিলেন না—ঢাকায় বসে মাঝে মধ্যে ফটোসেশনে অংশ নিয়েছেন মাত্র। এখন নিজেকে ত্যাগী নেতা হিসেবে পরিচয় দিতে চান, যা মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর।তারা আরও বলেন, জনবিচ্ছিন্ন কাজী আলাউদ্দিনকে পুনরায় মনোনয়ন দিয়ে ধানের শীষ প্রতীককে ঝুঁকির মুখে ফেলা হয়েছে। যত দ্রুত সম্ভব তার মনোনয়ন বাতিল করে গরিবের ডাক্তারখ্যাত ডাঃ শহিদুল আলমকে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করার দাবি জানান তারা।বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, এই দাবি মানা না হলে তারা দল থেকে গণপদত্যাগে বাধ্য হবেন। এজন্য দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের প্রতি দ্রুত হস্তক্ষেপের আহ্বান জানান।
Leave a Reply