
আজকের সাতক্ষীরা দর্পণ ডেস্ক: সাতক্ষীরায় চলতি শীত মৌসুমে তাপমাত্রা আরও কমে গিয়ে নতুন করে তীব্র রূপ ধারণ করেছে। ঘন কুয়াশা আর উত্তরের হিমেল বাতাসে জেলার স্বাভাবিক জনজীবন চরমভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। এই হাড়কাঁপানো শীতে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে খেটে খাওয়া মানুষ, দিনমজুর, যানবাহন চালক, শিশু ও বয়স্কদের। প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। তবে জীবিকার তাগিদে অনেকেই বাধ্য হয়ে শীত উপেক্ষা করে রাস্তায় নামছেন।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) ভোর ৬টায় সাতক্ষীরা আবহাওয়া অফিস চলতি শীত মৌসুমে জেলার সর্বনি¤œ তাপমাত্রা রেকর্ড করেছে ৮ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৭ শতাংশ, যা শীতের তীব্রতা আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
ঘন কুয়াশার কারণে সকাল পর্যন্ত সূর্যের দেখা মেলেনি। এতে করে সড়ক-মহাসড়কে যান চলাচলও কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে। দূরপাল্লার যানবাহনগুলোকে ধীরগতিতে চলতে দেখা গেছে। ভোরের দিকে দৃশ্যমানতা কম থাকায় ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে চালকদের। এদিকে শীতজনিত রোগে আক্রান্তের সংখ্যাও বাড়ছে। স্থানীয় হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোতে সর্দি-কাশি, জ্বর ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে রোগীর চাপ বেড়েছে।
সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. সামছুর রহমান বলেন, তীব্র শীতে শিশুদের প্রতি বিশেষ যত্ন নেওয়া জরুরি। হাত-পায়ে মোজা পরিয়ে শরীর গরম কাপড়ে ঢেকে রাখতে হবে। বাসি খাবার খাওয়ানো যাবে না এবং বিশুদ্ধ পানির বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে। একই ধরনের সতর্কতা বয়স্কদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।
প্রশাসন ও বিভিন্ন বেসরকারি সংগঠনের পক্ষ থেকে শীতবস্ত্র বিতরণ শুরু হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। আবহাওয়া পরিস্থিতি আরও কয়েক দিন এমন থাকলে দুর্ভোগ বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
শীতার্তদের সহায়তায় জেলা প্রশাসনের উদ্যোগের কথা জানিয়ে জেলা প্রশাসক আফরোজা আখতার বলেন, ইতোমধ্যে ৫ হাজার কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। এই কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
Leave a Reply