কাজী মারুফ সাতক্ষীরা থেকে: আজ শনিবার ২১ রমজান। মুক্তির পায়গম নিয়ে হাজির শেষ দশক। গতকাল সূর্যাস্তের পূর্বেই আল্লাহ প্রেমিক মানুষ মসজিদ অবস্থান করে ইতেকাফ শুরু করেছেন। এছাড়া আজ মক্কা বিজয় দিবস। অষ্টম হিজরির ২০ বা ২১ রমজান জুমাবার রাসুল (সা.) ও সাহাবায়ে কেরাম মক্কা বিজয় করেন। একসময় কাবাগৃহ ছিল বিশুদ্ধ একত্ববাদের কেন্দ্রস্থল। একমাত্র আল্লাহর বন্দেগির জন্য আল্লাহর নির্দেশে এটি পুননির্মাণ করেছিলেন হজরত ইবরাহিম (আ.)। এটি মুশরিকদের দখলে থাকায় শিরকের কেন্দ্রস্থলে পরিণত হয়েছিল। রাসুল (সা.) তাওহিদের এ পবিত্র স্থানকে শিরকের নাপাকি থেকে মুক্ত করেন। রাসুল্লাহ (সা.) মক্কায় প্রবেশ করে কোনো প্রতিশোধ প্রহণের কথা বলেননি। তিনি এ মর্মে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেন এক. যারা আপন ঘরের দরজা বন্ধ করে থাকবে তারা নিরাপদ। দুই. যারা আবু সুফিয়ানের ঘরে থাকবে তারাও নিরাপদ। তিন. যারা কাবাগৃহে আশ্রয় নেবে তারাও নিরাপদ।
মক্কা বিজয়ের এই ঘটনার সঙ্গে আধুনিককালের কোনো রাজ্যজয়ের ঘটনা তুলনা করলেই ইসলাম ও জাহিলিয়াতের পার্থক্যটা স্পষ্টভাবে ধরা পড়ে। জাহিলিয়াতের ঝা-াবাহীরা বিজয়কে মনে করে নিজেদেরই কৃতিত্বের ফসল। তাই বিজয় উৎসবের নামে তারা প্রকাশ করে দানবীয় উল্লাস। আর সে উল্লাসের শিকার হয় অসহায় ও নিরস্ত্র মানুষ।
তবে রাসুলুল্লাহ (সা.) সেদিন কাবাঘরে প্রবেশ করে সর্বপ্রথম সেখানে রাখা মূর্তি বাইরে ছুড়ে ফেলার নির্দেশ দেন। তখন কাবাগৃহে ৩৬০টি মূর্তি বর্তমান ছিল। দেয়াল ছিল নানারূপ চিত্র অঙ্কিত। এর সবই নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া হয়। এভাবে আল্লাহর পবিত্র ঘরকে শিরকের অপবিত্রতা থেকে মুক্ত করা হয়। এরপর রাসুল (সা.) তাকবির ধ্বনি উচ্চারণ করে কাবাগৃহ তাওয়াফ করেন। এ ছিল তাঁর বিজয় উৎসব। এত বড় একটি বিজয় উৎসবে বিজয়ীরা অত্যন্ত বিনয় ও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে আল্লাহর কাছে অবনমিত হয়েছেন ও তাঁর প্রশংসাগীতি উচ্চারণ করেছেন। এটা ছিল মানবরচিত আইন-কানুনের বিরুদ্ধে আল্লাহর সার্বভৌমত্ব ও একত্ববাদের মহা বিজয়।
গতকাল সূর্যাস্তের পূর্বেই আল্লাহ প্রেমিক মানুষ মসজিদ অবস্থান করে এতেকাফ শুরু করেছেন। এতেকাফ সুন্নত। রমজানের শেষ দশ রাত্রে কদরের রাত্রির অন্বেষণে এতেকাফ করার বিধান চালু হয়েছে। কিন্তু এতেকাফের মান্নত করলে তা পালন করা ওয়াজিব হবে। রজমান ছাড়াও কোন সময় মসজিদে অনির্ধারিত সময়ব্যাপী এতেকাফ করা যায়। পবিত্র কুরআন মজীদে আল্লাহ বলেছেন: অর্থ: আমার ঘরকে তাওয়াফ ও এতেকাফকারীদের জন্য পবিত্র রাখো। এতেকাফ সম্পর্কে হাদীসে এসেছে, আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমজানে ১০দিন এতেকাফ করতেন কিন্তু ইন্তেকালের বছর তিনি ২০ দিন এতেকাফ করেন। (বুখারী) আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমৃত্যু রমজানের শেষ দশকে এতেকাফ করতেন। (বুখারী ও মুসলিম) এতেকাফের মান্নত আদায় করা ওয়াজিব হওয়ার ব্যাপারে দু’টি হাদীস আছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: কারোর মান্নত যদি আল্লাহর আনুগত্যের জন্য হয়, তা যেনো পূরণ করা হয়। (বুখারী ও মুসলিম) ইবনে ওমর (রা) থেকে বর্ণিত, ওমর (রা) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞেস করেন, আমি জাহেলিয়াতের যুগে মসজিদে হারামে এক রাত এতেকাফ করার নিয়ত করেছিলাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তোমার মান্নত পূরণ করো।
Leave a Reply