
নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা সদর ভূমি অফিসে তদন্ত ও শুনানি শেষে প্রস্তুতকৃত প্রতিবেদনে দ্বিতীয় পক্ষের আইনগত অবস্থান স্পষ্টভাবে উঠে আসার পর এক ভূমি দখলদারের বিরুদ্ধে সরকারি কর্মকর্তাকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্তের নাম ফারুক।
ভূমি অফিস সূত্রে জানা যায়, সরকারি আদেশ অনুযায়ী নির্ধারিত দিনে উভয় পক্ষের উপস্থিতিতে শুনানি অনুষ্ঠিত হয় এবং সংশ্লিষ্ট জমির দলিল, খতিয়ান ও রেকর্ডপত্র যাচাই করা হয়। তদন্ত প্রতিবেদনের এক অনুচ্ছেদে উল্লেখ করা হয় “অফিসে রক্ষিত সংশ্লিষ্ট রেকর্ড রেজিস্টারসহ কাগজপত্র পর্যবেক্ষণ, শুনানি ও পক্ষদ্বয়ের নোটিশ দ্বারা অবগত করিয়া মামলাভুক্ত তফসীল সম্পত্তি ৩০/১২/২০২৫ খ্রি. তারিখ বেলা ১২টার সময় সরেজমিনে তদন্ত করা হয়।” প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, দাখিলকৃত দলিল ও রেকর্ড পর্যালোচনায় দেখা গেছে যে, মামলাভুক্ত জমিটি দ্বিতীয় পক্ষের দাবির পক্ষে রেকর্ডভুক্ত রয়েছে এবং উক্ত সম্পত্তি সংক্রান্ত বিষয়ে আদালতে একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
তদন্ত প্রতিবেদনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশে বলা হয় “উভয় পক্ষের বক্তব্য গ্রহণ ও দাখিলকৃত কাগজাদি যাচাই করে দেখা যায় যে, উক্ত জমির মালিকানা ও দখল সংক্রান্ত বিষয় আদালতের বিচারাধীন থাকায় ভূমি অফিস আইনগতভাবে নিরপেক্ষ অবস্থান গ্রহণ করতে বাধ্য।” এই প্রতিবেদন দ্বিতীয় পক্ষের অনুকূলে যাওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন ফারুক। প্রত্যক্ষদর্শী ও অফিস সূত্র জানায়, তিনি সদর ভূমি অফিসে নায়েব শর্মিষ্ঠা সরকারকে উদ্দেশ্য করে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং হুমকি দেন। এ সময় তিনি বলেন, “জমি আমার দখলে, তবুও কেন আমার বিপক্ষে রিপোর্ট দেওয়া হলো?”
তদন্ত প্রতিবেদনে ফারুকের পক্ষে বৈধ মালিকানা কিংবা আদালতের কোনো স্থগিতাদেশের উল্লেখ নেই। বরং এলাকাবাসীর অভিযোগ, তিনি দীর্ঘদিন ধরে জোরজবরদস্তি ও প্রভাব খাটিয়ে মানুষের জমি দখল করে আসছেন। স্থানীয়দের ভাষায়, “ফারুক একজন ভূমিদস্যু। এই এলাকার জমি লুটের মূল হুতা সে।” সরকারি তদন্ত প্রতিবেদন উপেক্ষা করে একজন সরকারি কর্মচারীকে প্রকাশ্যে হুমকি দেওয়ার ঘটনায় সদর ভূমি অফিসে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সচেতন মহলের মতে, এটি শুধু একজন নায়েবের ওপর হুমকি নয়; বরং ভূমি প্রশাসন ও আইনের শাসনের বিরুদ্ধে সরাসরি চ্যালেঞ্জ।
এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগীরা ফারুকের বিরুদ্ধে দ্রুত ফৌজদারি মামলা গ্রহণ, তদন্ত রিপোর্টের আলোকে আইনগত ব্যবস্থা এবং ভূমি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। এলাকাবাসী বলেন, “একজন সরকারি কর্মকর্তা সঠিক তদন্ত রিপোর্ট দিলে যদি ভূমিদস্যুরা হুমকি দেয়, তাহলে প্রশাসন ও আদালতের কাজ চলবে কীভাবে? ভূমিদস্যু ফারুকের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা জরুরি, যাতে ভবিষ্যতে কেউ সরকারি কর্মকর্তাকে হুমকি দেওয়ার সাহস না পায়।” অভিযোগের বিষয়ে ফারুক বলেন, “আমি কোনো হুমকি-ধামকি দেইনি।”
Leave a Reply