
কালিগঞ্জ ব্যুরো : আইন আদালতে সকলের জন্য সমান রাষ্ট্রের এই মৌলিক নীতির বাস্তব প্রয়োগ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে পরিচালিত একটি মোবাইল কোর্ট কার্যক্রমকে ঘিরে। বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) বিকেলে কালিগঞ্জ থানা ও প্রেসক্লাবের সামনে পরিচালিত মোবাইল কোর্ট চলাকালে দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্রাফিক সার্জেন্টের আচরণে প্রকাশ্য বৈষম্যের অভিযোগ তুলেছেন প্রত্যক্ষদর্শী ও সাধারণ মানুষ।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, উপজেলা (ভারপ্রাপ্ত) মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জয়নাল আবেদীনের ব্যবহৃত মোটরসাইকেলে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও হেলমেট না থাকলেও দায়িত্বরত ট্রাফিক সার্জেন্ট শরিফুল ইসলাম কোনো ধরনের মামলা বা আইনগত ব্যবস্থা না নিয়ে তাকে ছেড়ে দেন। অথচ একই সময়ে সাধারণ পথচারী ও যানবাহন চালকদের ক্ষেত্রে কাগজপত্রে সামান্য ত্রুটি থাকলেই মামলা ও জরিমানা করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করে বলেন, মুখ চেনা ও পদমর্যাদা বিবেচনায় এনে ট্রাফিক সার্জেন্ট কার্যত ‘খাদিমদারি’ আচরণ করেছেন, যা আইনের ন্যায়সংগত প্রয়োগের পরিপন্থী।এতে মোবাইল কোর্টের নিরপেক্ষতা ও স্বচ্ছতা নিয়ে জনমনে গভীর সন্দেহ তৈরি হয়েছে।
এ ঘটনায় উপস্থিত সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে।
অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন আইন কি শুধুই সাধারণ মানুষের জন্য, নাকি পদ-পদবি থাকলে তা শিথিল হয়ে যায়? যদি আইন প্রয়োগে এমন দ্বৈত মানদণ্ড থাকে, তবে মোবাইল কোর্টের উদ্দেশ্য ও কার্যকারিতা কতটা বিশ্বাসযোগ্য থাকে,সে প্রশ্নও উঠেছে।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, এ ধরনের বৈষম্যমূলক আচরণ আইনের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা নষ্ট করে এবং শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার পরিবর্তে অনাস্থা সৃষ্টি করে। তারা সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে দাবি জানান, ভবিষ্যতে যেন আইন প্রয়োগে কোনো ধরনের পক্ষপাতিত্ব, মুখ চেনা বা প্রভাব খাটানোর সুযোগ না থাকে এবং সকলের জন্য সমানভাবে আইন কার্যকর করা হয়।
Leave a Reply