জাহাঙ্গীর সরদার, বিশেষ প্রতিনিধি : আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সাতক্ষীরা-২ (সাতক্ষীরা সদর–দেবহাটা) আসনে বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে জোর আলোচনা চলছে। দলের তৃণমূল থেকে শুরু করে পৌরসভা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের বহু নেতাকর্মী এই আসনে জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক ও সাতক্ষীরা পৌরসভার সাবেক মেয়র তাজকিন আহমেদ চিশতীকে মনোনয়ন দেওয়ার দাবি তুলেছেন।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি সাতক্ষীরা পৌরসভার বর্তমান- সাবেক পর্যায়ের নেতা ছাড়াও দুই উপজেলার ১৯টি ইউনিয়নের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, সাংগঠনিক সম্পাদকসহ মোট ৭৩ জন দায়িত্বশীল নেতা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কাছে লিখিত আবেদন জমা দিয়েছেন। আবেদনটি দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর মাধ্যমে গ্রহণ করা হয়।
আবেদনপত্রে সাবেক ছাত্রনেতা আলহাজ্ব তাজকিন আহমেদ চিশতীর দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ত্যাগ, জনপ্রিয়তা ও সাংগঠনিক সক্ষমতার বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। সেখানে বলা হয়-
তিনি তৎকালীন আওয়ামী সরকারের আমলেও সাতক্ষীরা পৌরসভার মেয়র পদে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচিত হন। রাজনৈতিক প্রতিকূলতা, মামলা- হয়রানি ও দমন-পীড়নের মধ্যেও তিনি দলীয় কর্মকাণ্ড থেকে বিচ্যুত হননি। তিনি সাধারণ মানুুষের আশা-ভরসার শেষ আশ্রয়স্থল হিসেবে ব্যাপক জনপ্রিয়তা নিয়ে মেয়র নির্বাচিত হন। আওয়ামী আমলের কঠিন সময়ে জেলা বিএনপির নেতাকর্মীদের আশ্রয়, সাহস ও নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি। সাতক্ষীরা- ২ আসনে তৃণমূল পর্যায়ে তার গ্রহণযোগ্যতা অন্য যে কোনো নেতৃত্বের তুলনায় অনেক বেশি।
আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, সাতক্ষীরা-২ আসনে দলীয় প্রার্থী হিসেবে তাজকিন আহমেদ চিশতী সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য, সবচেয়ে সংগঠিত এবং সর্বোচ্চ জনসমর্থনপ্রাপ্ত নেতা। তৃণমূল থেকে শুরু করে সর্বস্তরের মানুষ ধানের শীষের প্রতি তার নিষ্ঠা, কর্মদক্ষমতা এবং মানবিক নেতৃত্বকে অত্যন্ত আস্থার সাথে মূল্যায়ন করে।
জেলার রাজনীতি সচেতন ব্যক্তিরা বলছেন, তাজকিন আহমেদ চিশতী ছাত্র নেতা থেকে পৌর মেয়র তথা তরুণ নেতৃত্বে এলাকায় সক্রিয় থাকায় ব্যাপক জনপ্রিয়। এই রাজনীতির কারণে তার বিরুদ্ধে অনেকগুলো মামলা রয়েছে। যা অন্য কোন নেতার নামে আছে কিনা সন্দেহ। আওয়ামী লীগের চরম রোষানলে তার বিগত ১৭ বছরের জীবন তছনছ হয়ে গেছে।
জেলা বিএনপির অভ্যন্তরীণ একাধিক সূত্র জানায়, কিছু ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব থাকলেও প্রার্থী হিসেবে তার গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ নয়। বরং জনপ্রিয়তা এবং চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতায় তার সক্রিয় ভূমিকা তাকে তৃণমূলের প্রথম সারির পছন্দে পরিণত করেছে। বিশেষ করে পৌরসভা এলাকায় তার জনসম্পৃক্ততা অত্যন্ত সুদৃঢ়। দেবহাটা ও সদর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে তার একাধিক স্বেচ্ছাসেবী নেটওয়ার্ক সক্রিয়। তরুণ ভোটারদের কাছে তিনি তুলনামূলক অনেক বেশি গ্রহণযোগ্য।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে জেলা বিএনপির এক নেতা বলেন- দল যদি চিশতীকে মনোনয়ন দেয়, নেতাকর্মীরা নতুন উদ্দীপনা নিয়ে মাঠে নামবে- এটা নিশ্চিত। কেননা অন্যান্যদের বিষয়ে সমালোচনা থাকলেও চিশতিকে নিয়ে কোন সমালোচনা নেই।
যদিও কেন্দ্র এখনও চূড়ান্ত ঘোষণা দেয়নি, তবে তৃণমূলের এই সমবেত আবেদন দলীয় উচ্চপর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে ধরা হচ্ছে। দলের একজন নীতিনির্ধারক মোবাইলে বলেন- সাতক্ষীরা–২ আসনটি এবার খুব কৌশলগতভাবে বিবেচনায় নিতে হচ্ছে। স্থানীয় সমর্থন, প্রার্থীর গ্রহণযোগ্যতা এবং মাঠের বাস্তবতা পর্যালোচনা করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।
বিএনপির তৃণমূল নেতারা চান, সাতক্ষীরা-২ আসনে দলের পরীক্ষিত ও মাঠপর্যায়ে শক্তিশালী নেতৃত্বকে সামনে রেখে নির্বাচন হোক। তারা বিশ্বাস করেন, জেলা শহরে বসবাসকারী তরুন নেতা তাজকিন আহমেদ চিশতীকে মনোনয়ন দেওয়া হলে বিএনপির সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা দ্বেষ-দ্বন্দ্ব- ভুলে ঐক্যবদ্ধভাবে দলের পক্ষে অনুকূল পরিবেশ তৈরি হবে এবং আসনটি পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা বৃদ্ধি পাবে।
কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের দিকে এখন তাকিয়ে পুরো সাতক্ষীরা জেলা বিএনপি। আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে এই আসনে মনোনয়নই নির্ধারণ করবে রাজনৈতিক সমীকরণের পরবর্তী রূপরেখা।
Leave a Reply