এসএসসির ফল প্রকাশ: কেউ হাঁসছে কেউ কাঁদছে: ফেল করা শিক্ষার্থীকে ভৎসনা নয় চাই ভালোবাসা

ফিচার সাতক্ষীরা সদর সাতক্ষীরা-জেলা

আজকের সাতক্ষীরা দর্পণ ডেস্ক: সকাল ১০টা বাজতেই যেন বদলে গেল হাজারো কিশোর-কিশোরীর পৃথিবী। কারোর চোখে আনন্দের ঝিলিক, মুখে বিজয়ের হাসি, আবার কারোও চোখে জমল অশ্রু, বুকের ভেতর নেমে এলো একরাশ হতাশা। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে সোমবার প্রকাশিত হলো চলতি বছরের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি), সমমান দাখিল ও এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষার ফলাফল। ফল প্রকাশের এই দিনটি কারও কাছে স্বপ্ন পূরণের দিন, আবার কারও কাছে নতুন করে নিজেকে গড়ার কঠিন বাস্তবতার দিন। এবার সারাদেশে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় গড় পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ। অথচ গত বছর, ২০২৫ সালে, এই হার ছিল ৬৮ দশমিক ৪৫ শতাংশ। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে পাসের হার কমেছে ৬ দশমিক ২০ শতাংশ। শুধু পাসের হারই নয়, কমেছে জিপিএ-৫ পাওয়ার সংখ্যাও। এ বছর জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬শত ৭৬ জন শিক্ষার্থী। গত বছর এই সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৩৯ হাজার ৩২ জন। ফলে এবার জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ২২ হাজার ৩ শত ৫৬ জন। সংখ্যার এই ওঠানামার আড়ালে অবশ্য লুকিয়ে আছে অসংখ্য পরিবারের গল্প। কোথাও বাবা-মায়ের চোখে সন্তানের সাফল্যের আনন্দ, কোথাও শিক্ষকের মুখে প্রিয় শিক্ষার্থীর ফলাফলের তৃপ্তি। আবার কোনো ঘরের দরজা হয়তো আজ একটু নীরব,সন্তানের প্রত্যাশিত ফল না আসায় সেখানে নেই উৎসবের আয়োজন, নেই মিষ্টির বাক্স। আছে শুধু সান্ত¡নার হাত আর নতুন করে শুরু করার আহ্বান। সোমবার সকাল ১০টায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আনুষ্ঠানিক ভাবে ফল প্রকাশের উদ্বোধন করেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। এ সময় দেশের সব শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান শিক্ষামন্ত্রীর কাছে পরীক্ষার ফলাফল হস্তান্তর করেন। চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু হয়েছিল গত ২১ এপ্রিল। তাত্ত্বিক পরীক্ষা শেষ হয় ২০ মে। এরপর ৭ জুন থেকে ১৪ জুন পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয় ব্যবহারিক পরীক্ষা। দীর্ঘ প্রস্তুতি, উদ্বেগ, রাতজাগা পড়াশোনা আর পরীক্ষার হলের চাপ পেরিয়ে অবশেষে আজ শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছাল সেই কাঙ্ক্ষিত ফল। এবার দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মোট ১৮ লাখ ৫৭ হাজার ৩শত ৪৪ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। এর মধ্যে ছাত্র ৯ লাখ ৩০ হাজার ৩শত ৫ জন এবং ছাত্রী ৯ লাখ ২৭ হাজার ৩৯ জন। তবে ফলাফলের আরেকটি পরিচিত চিত্র এবারও অটুট,পাশের হারে মেয়েরাই এগিয়ে। সংখ্যার হিসাবে পরীক্ষার হলে ছেলেমেয়ের উপস্থিতি কাছাকাছি হলেও ফলাফলের ময়দানে মেয়েদের এই এগিয়ে থাকা যেন তাদের অধ্যবসায় ও ধারাবাহিক সাফল্যের আরেকটি স্বাক্ষর। তবে একটি পরীক্ষার ফলাফল কখনোই একটি জীবনের চূড়ান্ত রায় হতে পারে না। জিপিএ-৫ পাওয়া মানেই জীবন যুদ্ধে নিশ্চিত সাফল্য নয়, আবার কাঙ্ক্ষিত ফল না পাওয়া মানেই ব্যর্থতার শেষ অধ্যায়ও নয়। পরীক্ষার খাতায় কয়েকটি সংখ্যার হিসাব
হয়তো আজ কারও মুখে হাসি ফুটিয়েছে, আবার কারও চোখে পানি এনেছে ঠিকই। কিন্তু জীবন নামের বড় পরীক্ষায় সামনে পড়ে আছে আরও অসংখ্য প্রশ্নপত্র। আজ যে শিক্ষার্থী কাঙ্ক্ষিত ফল পেয়ে মিষ্টি মুখ করছে, তার জন্য যেমন অভিনন্দন প্রাপ্য। তেমনি যে শিক্ষার্থী প্রত্যাশিত ফল পায়নি, তার কাঁধেও প্রয়োজন ভালোবাসার হাত। কারণ একটি ফলাফল একটি দরজা বন্ধ করতে পারে, কিন্তু জীবনের সব দরজা বন্ধ করে দিতে পারে না। আজকের এই হাসি আর কান্নার দিন তাই শুধু ফল প্রকাশের দিন নয়, এটি নতুন স্বপ্ন দেখারও দিন। কেউ এগিয়ে যাবে আনন্দকে সঙ্গে নিয়ে, কেউ হয়তো চোখের জল মুছে আবার বই খুলবে। শেষ পর্যন্ত জীবন তাদেরই, যারা পড়ে গিয়ে আবার উঠে দাঁড়াতে জানে। এসএসসির ফলাফল তাই শুধু পাস-ফেলের হিসাব নয়,এটি হাজারো পরিবারের স্বপ্ন, প্রত্যাশা, পরিশ্রম, আনন্দ আর অশ্রুর এক বিশাল মানবিক গল্প। আজ কেউ হাসছে, কেউ কাঁদছে, কিন্তু সবার সামনে একই বার্তা,ফলাফল একটি অধ্যায়ের শেষ। জীবনের নয়। আমি অধমের এমনটি ধারনা

Share this news as a Photo Card

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *