
কাজী সোহাগ পাইকগাছা : খুলনার পাইকগাছায় দু’টি প্রধান সড়কের মাঝখানে পানি নিষ্কাশনের সুনির্দিষ্ট পথ না থাকায় দীর্ঘস্থায়ী নজিরবিহীন জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে স্থানীয় ২৫টি দোকানপাট ও ৫টি পরিবার চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে।
উপজেলার গদাইপুর বাজার মেড়ে দুই সড়কের মাঝ খানে ২৫টি দোকান ও ৫টি পরিবার জলবদ্ধতায় মানবেতর জীবন যাপন করেছে। এলাকাটি দু’টি সড়কের মাঝখানে অবস্থিত হওয়ায় এবং পানি নেমে যাওয়ার জন্য পর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা বা কালভার্ট সচল না থাকায় বৃষ্টির পানি আটকে থাকছে। পানি জমে থাকায় চলাচলে ও ব্যবসা পরিচালনায় মারাত্মক বিঘœ ঘটছে এবং জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। এই জলাবদ্ধতা নিরসনে দ্রুত সঠিক পদক্ষেপ নেওয়া দরকার।
গদাইপুর বাজার মোড় সরলী করণ করায় দুই রাস্তার মাঝ খানে প্রায় ২৫টি দোকান ও ৫টি পরিবার পড়েছে। এদের চারপাশ দিয়ে পিচের রাস্তা তৈরি হয়েছে। তবে ভিতরের পানি নিষ্কাশনের কোন ব্যবস্থা রাখা হয়নি। সামান্য বৃষ্টি হলে পানি জমে থাকে। পানি বের হওয়ার কোন পথ নেই। গদাইপুর বাজার মোড়ের দুই সড়কের মধ্যবর্তী স্থানে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং পরিবারগুলি চরম ভোগান্তিতে রয়েছে। গদাইপুর বাজার মোড়ের ব্যবসয়ী মহসিন বলেন, আমার তিনটি দোকান পানিতে তলিয়ে রয়েছে এবং দোকানের পিছনে বাড়ীর প্রতিটি ঘরে প্রায় এক ফুট পানিতে থই থই করছে। আষাড় মাস থেকে এই জলবদ্ধা শুরু হয়েছে। পানি বের করার কোন পথ নেই। সড়ক সরলীকরণ রাস্তা তৈরি করার সময় আমি পানি নিষ্কাশনের জন্য রাস্তার নিচ দিয়ে একটি পাইপ বসানো অনুরোধ করেছিলাম, কিন্তু কেউ কোন গুরুত্ব দেয়নি।
পানি জমে থাকায় ২৫টি দোকানের ব্যবসা-বাণিজ্য সম্পূর্ণ বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। জলাবদ্ধতার কারণে ক্রেতারা আসতে পারছেন না এবং অনেক দোকানের মালামাল নষ্ট হচ্ছে। ৫টি বসতবাড়ির চারপাশে নোংরা ও পচা পানি জমে থাকায় পরিবারগুলো ঘর থেকে বের হতে পারছে না। রান্নাবান্না, বিশুদ্ধ পানির সংকট এবং দৈনন্দিন স্বাভাবিক কাজ থমকে গেছে। দীর্ঘদিন পানি জমে থাকায় এলাকায় দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে এবং পানিবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব ও মশার উপদ্রব মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
গদাইপুর ইউনিয়ান পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শেখ খোরশেদ আলম বলেন, গদাইপুর বাজারের পানি সরানোর ব্যবস্থা করার জন্য ইউএনও কে অবহিত করেছি।
দুই সড়কের মাঝখানে জলবদ্ধতার কারণে ২৫টি দোকান ও ৫টি পরিবার চরম দুর্ভোগে রয়েছে। জমে থাকা পানি সরানোর জন্য দ্রুত ড্রেনেজ ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে পানি নিষ্কাশনের স্থায়ী ব্যবস্থা করা না করলে দুই রাস্তার মাঝ খানের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও পরিবারগুলীর জলবদ্ধতা থেকে বাঁচার কোন উপায় নেই।
