
আজকের সাতক্ষীরা দর্পণ ডেস্ক: সাতক্ষীরায় জলাবদ্ধতা এখন আর কেবল সাময়িক কোনো সমস্যা নয়, এটি রূপ নিয়েছে এক স্থায়ী ও মানবিক বিপর্যয়ে। সম্প্রতি শহরের ইটাগাছা পশ্চিমপাড়ার জলমগ্ন এলাকায় ভুক্তভোগী মানুষ ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের মানববন্ধনে উঠে আসা চিত্রটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। বছরের পর বছর ধরে সামান্য বৃষ্টিতেই সাতক্ষীরা শহর ও এর আশপাশের নিম্নাঞ্চলগুলো পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে। ঘরের ভেতরে পানি ঢুকে ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক স্যানিটেশন ব্যবস্থা, ছড়াচ্ছে পানিবাহিত রোগ। একটি জেলা শহরের বাসিন্দারা দিনের পর দিন এভাবে জলবন্দী জীবন যাপন করবেন তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
এবারের কর্মসূচিতে ভুক্তভোগী ও নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে যে ৫ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়েছে, তা অত্যন্ত যৌক্তিক ও সময়োপযোগী। বিশেষ করে ইটাগাছা পশ্চিমপাড়াসহ সব নিম্নাঞ্চলে টেকসই ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে তোলা, প্রাকৃতিক জলাশয় সংস্কার ও অবৈধ দখলমুক্ত করা এবং বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি মেনে পরিকল্পিত মাছ চাষ নিশ্চিত করার দাবিগুলো সাতক্ষীরার জলাবদ্ধতা সংকটের মূল কারণকেই নির্দেশ করে। বছরের পর বছর ধরে অপরিকল্পিত নগরায়ণ, পানি নিষ্কাশনের পথ ও প্রাকৃতিক খালগুলো ভরাট করে বহুতল ভবন নির্মাণ এবং যত্রতত্র মাছের ঘের তৈরি করে পানির স্বাভাবিক গতিপথ রুদ্ধ করার কারণেই আজ এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে যখন বৃষ্টিপাতের ধরন অনিয়মিত হয়ে উঠছে, তখন আমাদের অবহেলা ও নদী-খাল দখলের মরণনেশা এই সংকটকে আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। শুধু সাময়িক ড্রেন নির্মাণ কিংবা জোড়াতালির সংস্কার দিয়ে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন একটি দীর্ঘমেয়াদি ও বিজ্ঞানসম্মত মহাপরিকল্পনা।
আমরা মনে করি, অবিলম্বে সাতক্ষীরা শহরের ভেতরের সব নালা-নর্দমা সচল করতে হবে এবং শহরের পানি নিষ্কাশনের প্রধান মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত নদী ও খালগুলোকে অবৈধ দখলদারদের হাত থেকে মুক্ত করতে হবে। একই সঙ্গে স্থানীয় সরকার ও জেলা প্রশাসনকে যেকোনো উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণের ক্ষেত্রে স্থানীয় জনগণের মতামত ও পরিবেশগত প্রভাবকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে। সাতক্ষীরার লাখ লাখ মানুষের কষ্ট লাঘব এবং এই জনপদকে বাসযোগ্য রাখতে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অবিলম্বে ইটাগাছাসহ পুরো জেলার জলাবদ্ধতা নিরসনে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে এটাই আমাদের প্রত্যাশা।
