আজকের সাতক্ষীরা দর্পণ ডেস্ক: ভূমি অফিসে এসে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা, রোদ-বৃষ্টি কিংবা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র গুছিয়ে নেওয়ার বিড়ম্বনা—এমন চিত্র একসময় ছিল সাধারণ ঘটনা। তবে সাতক্ষীরা সদর ভূমি অফিসে নির্মিত বসার শেড ও সেবা পরামর্শ কেন্দ্র ‘মাটির টানে’ এখন সেবাপ্রার্থীদের জন্য স্বস্তির এক নির্ভরযোগ্য ঠিকানায় পরিণত হয়েছে।
প্রতিদিন জমির নামজারি, খাজনা পরিশোধ, ভূমি উন্নয়ন কর, পর্চা সংগ্রহ, অনলাইন আবেদনসহ বিভিন্ন কাজে শতাধিক মানুষ সদর ভূমি অফিসে আসেন। তাদের জন্য অফিস চত্বরে নির্মিত গোলঘর আকৃতির এই শেডে বসে মানুষ বিশ্রাম নিচ্ছেন, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করছেন এবং অনলাইন সেবার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, শেডের নিচে বসে অনেকেই দলিল, খতিয়ান ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নথি যাচাই করছেন। কেউ অনলাইনে নামজারি আবেদন করার আগে প্রয়োজনীয় তথ্য গুছিয়ে নিচ্ছেন। আবার কেউ সেবা গ্রহণের সিরিয়ালের অপেক্ষায় সময় কাটাচ্ছেন। তীব্র গরম কিংবা বৃষ্টির সময় শেডটি সেবাপ্রার্থীদের জন্য বাড়তি স্বস্তি এনে দিচ্ছে।
শুধু বসার স্থান হিসেবেই নয়, সচেতনতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও ভূমিকা রাখছে ‘মাটির টানে’ কেন্দ্রটি। এর দেয়ালে লেখা রয়েছে সততা, দায়িত্ববোধ, জনসেবা ও নাগরিক সচেতনতা বিষয়ক বিভিন্ন অনুপ্রেরণামূলক বাণী। সেবা নিতে আসা মানুষ এসব বাণী পড়ে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করছেন।
ভূমি অফিস সূত্রে জানা যায়, ‘মাটির টানে’ ভূমি সেবা ও পরামর্শ কেন্দ্রটি জেলা প্রশাসনের একটি ব্যতিক্রমী উদ্যোগ। তৎকালীন জেলা প্রশাসক আবুল কাশেম মো. মহিউদ্দিনের পরিকল্পনা ও নির্দেশনায় কেন্দ্রটি নির্মিত হয়। এর নামকরণ করেন জেলা প্রশাসকের স্ত্রী সেলিনা আফরোজ। ডিজাইন করেন তৎকালীন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আব্দুল লতিফ খান। সদর উপজেলার তৎকালীন নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ নূর হোসেন (সজল)-এর তত্ত্বাবধানে এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) দেবাশীষ চৌধুরীর বাস্তবায়নে প্রকল্পটি সম্পন্ন হয়। ২০১৭ সালের ৯ সেপ্টেম্বর কেন্দ্রটির উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক আবুল কাশেম মো. মহিউদ্দিন। সেবা নিতে আসা কাশেমপুর এলাকার হাফিজুল ইসলাম দৈনিক আজকের সাতক্ষীরা দর্পন এর প্রতিনিধিকে বলেন, “আগে ভূমি অফিসে এসে বসার ভালো কোনো জায়গা ছিল না। এখন শেডে বসে কাগজপত্র দেখে নেওয়া যায়। এতে অনেক সুবিধা হচ্ছে।” লাবসা এলাকার মোহাম্মদ হাফিজ বলেন, “মানুষের সুবিধার জন্য বসার শেডটি ভালো উদ্যোগ। তবে ভূমি অফিসে অনেকের অভিযোগ, টাকা ছাড়া অনেক কাজ এগোতে চায় না। সেবার পাশাপাশি এ বিষয়েও নজর দেওয়া প্রয়োজন।”
স্থানীয়দের মতে, সরকারি সেবা কার্যক্রমকে আরও জনবান্ধব ও সহজলভ্য করতে এমন অবকাঠামোগত উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। একই সঙ্গে ভূমি অফিসে সেবা গ্রহণে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা গেলে সাধারণ মানুষের আস্থা আরও বৃদ্ধি পাবে। সচেতন মহলের অভিমত, ‘মাটির টানে’ সেবা ও পরামর্শ কেন্দ্রের মতো উদ্যোগ একদিকে যেমন সেবাপ্রার্থীদের ভোগান্তি কমাচ্ছে, অন্যদিকে সরকারি সেবা ব্যবস্থাকে আরও মানবিক ও নাগরিকবান্ধব করে তুলছে। তবে সেবার মানোন্নয়নের পাশাপাশি দুর্নীতিমুক্ত ও হয়রানিবিহীন ভূমি সেবা নিশ্চিত করাই এখন সময়ের দাবি।
