
আজকের সাতক্ষীরা দর্পণ ডেস্ক: সাতক্ষীরার শ্যামনগরসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। এতে বহু ভবনের ফাটল পড়েছে এবং মাটির দেয়াল ধসে তিনজন আহত হয়েছেন।
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১টা ৫২ মিনিট ২৯ সেকেন্ডে এ ভূমিকম্প অনুভূত হয়।
এতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘরবাড়ি ও স্থাপনায় ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। কোথাও মাটির ঘর আংশিক ধসে পড়েছে, আবার কোথাও ভবনে ফাটল দেখা দিয়েছে। ফাটলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দেয়াল, ছাদ, পিলারসহ বিভিন্ন অংশ।
আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলা। রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পের মাত্রা ৫.৪। এটি মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প বলেছে অধিদপ্তর।
উপজেলার রমজাননগর ইউনিয়নের ২নম্বর ওয়ার্ডের সোনাখালি এলাকায় শফিকুল ইসলাম দৈনিক আজকের সাতক্ষীরা দর্পণ এর প্রতিনিধিকে জানান, ভূমিকম্পে তার একমাত্র মাটির ঘরটি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঘরের দেয়ালে ফাটল ও কিছু অংশ ধসে পড়ায় পরিবার নিয়ে আতঙ্কে রয়েছেন তিনি। এদিকে শ্যামনগর পৌরসভার নূর কম্পিউটার মার্কেটের পাশে অবস্থিত তালাবদ্ধ আওয়ামী লীগ অফিসের ভবনে ফাটল ধরেছে বলে স্থানীয়রা জানান। একই এলাকার পার্শ্ববর্তী আরও কয়েকটি ভবনেও ফাটল দেখা গেছে। অপরদিকে গাবুরা ইউনিয়নের হরিশখালি এলাকায় একটি মসজিদে ফাটল ধরার পাশাপাশি ভেতরের টাইলস খুলে পড়ার খবর পাওয়া গেছে। এতে স্থানীয় মুসল্লিদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
আতঙ্কে ছিলেন নদীর তীরে বসবাসরত মানুষরা
উপজেলার চুনকুড়ি নদী তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দা আকবর হোসেন বলেন, ‘ভূমিকম্পের সময় নদীর পানি অনেক ওপরে উঠে প্রচণ্ড ঢেউ তুলেছিল। তবে নদীতে ওই সময় ভাটা থাকায় কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। আমরা নামাজের জন্য মসজিদে ছিলাম, এ সময় অনেকে ভয় পেয়ে মসজিদ থেকে বের হয়ে যায়। অনেকক্ষণ পর বুঝতে পেরেছি, ভূমিকম্প হয়েছে। তবে জীবনে এমন কম্পন আগে আর কখনো দেখিনি।’ আতঙ্কিত হয়ে পড়েন বাজারের অনেক ব্যবসায়ী। কম্পনের সময় হুড়োহুড়িতে সবাই ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ছেড়ে সড়কে বের হয়ে আসেন।
শ্যামনগর পৌরসভা এলাকার নকিপুর বাজারের এক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী পলাশ সাহা বলেন, ‘আমরা প্রথমে বুঝতে পারিনি। মনে করেছিলাম, কেউ ঠেলা দিচ্ছে। পরে দেখি আমাদের মার্কেটের ভবন কাঁপছে। এরপর সবাই দৌড়ে বের হয়ে মার্কেটের সামনের রাস্তায় গিয়ে দাঁড়ায়। সে সময় দেখি আশপাশের মার্কেটের ও মসজিদের মুসল্লিরা সবাই রাস্তায় বের হয়েছে।
আহতরা হলেন- উপজেলার ভুরুলিয়া এলাকার নুর আলী মোড়লের স্ত্রী ফয়জুন্নেছা (৭৫) অপর দুইজন ঈশ্বরীপুর ইউনিয়নের গুমানতলী এলাকার আমিনুর রহমানের ছেলে আরিফুল ইসলাম (১৮) ও গর্ভবতী নারী আটুলিয়া ইউনিয়নের হাওলভাঙ্গী এলাকার সোহেল হোসেনের স্ত্রী আঁখি আক্তার (২০) প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বাড়িতে ফিরেছেন।
এ বিষয়ে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক সাকির হোসেন জানান, ভূমিকম্পে আহত হয়ে তিনজন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। এর মধ্যে বয়স্ক ফয়জুন্নেছা হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। বাকিরা চিকিৎসা নিয়ে চলে গেছে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামসুজ্জাহান কনক জানিয়েছেন, ক্ষয়ক্ষতির প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহ করার জন্য স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানদেরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
Leave a Reply