ওমর ফারুক বিপ্লব : সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ঝাউডাঙ্গা ইউনিয়নের পাথরঘাটায় গ্রামে বেতনা পাউবোর নদীর ভাঙনে হুমকির মুখে পড়েছে একটি মসজিদ। যে কোন মুহূর্তে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানটি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে এমন আশঙ্কা দেখা দিয়েছে স্থানীয়দের মাঝে। এমন অবস্থায় দেখে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের উদাসিনয়তা দেখে নিন্দা প্রকাশ করেছে এলাকাবাসী।জানা যায়, ১৯৮৮ সালে প্রতিষ্ঠিত পাথরঘাটা বায়তুস্ সালাম জামে মসজিদ এর সংলগ্ন চরে নির্মাণাধীন মসজিদ বর্তমানে নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার মুখে। ভাঙনের কারণে মসজিদ নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার শঙ্কায় আতঙ্কে রয়েছে পখরঘাটা গ্রামবাসী। প্রতিদিন ভাঙন ক্রমেই বাড়তে থাকায় মসজিদটি হারানোর ভয় নিয়ে দিন কাটাচ্ছে এলাকাবাসী।
সাতক্ষীরার পানি উন্নয়ন বোর্ডের ২ এর অধিনে মসজিদ সংলগ্ন এই ভেঁড়ী বাঁধের সংস্কার করা অতি জরুরী পড়ছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ ভেঁড়ীবাঁধটি ২-৩ মাস ভয়াবহ অবস্থা যে কোন মূহুত্বে বাঁধ ধসে মসজিদটি নদীর সাথে বিলীন হয়ে যাবে। জোয়ারের সময় ভাঙনের আশংকায় দিন কাটাচ্ছে হাজারো পরিবার। পাউবোর ভেঁড়ী ধ্বসে ভেসে যেতে পারে হাজারো বাড়ি-ঘর, ফসলি জমির ক্ষতির মুখে পড়ার আশংকা রয়েছে। বায়তুস্ সালাম জামে মসজিদ কমিটি দ্রুত সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন। নদী খননের সময় সংরক্ষিত ভরাট অংশ বাদ দিয়ে ভাঙনপ্রবণ অংশে খনন করায় এ বিপর্যয় সৃষ্টি হয়েছে। খননের ৬মাসের মাথায় পুনরায় ভাঙন শুরু হয়, যা এখন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে।
পাথরঘাটার স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল রশিদ বলেন, পাথরঘাটায় বেতনা নদীর ধারে বায়তুস্ সালাম জামে মসজিদে আমরা নামাজ পড়ি কিন্তু নদীর ভাঙনে ভয়াবহ অবস্থায় রয়েছে আমাদের মসজিদ। আমরা এখন আতঙ্কের মধ্যে রয়েছি যেকোন সময় একটি দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। আমরা এলাকার গন্যমান্য মানুষদের নিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডে গিয়েছি আমাদের আশ^াস দিছে কিন্তু ২মাস হয়ে গেছে তার এখনো কনো প্রতিফলন পেলাম না।পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের পরামর্শে মসজিদ কমিটির থেকে ৩০ হাজার টাকা নিয়ে জমা দিয়ে এসেছি গাছ কেনার জন্য কাজ শুরু করছে কিন্তু খুবই ধীরগতি। কাজ শেষে পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে আমাদের ৩০ হাজার টাকা ফেরত দিয়ে দেবে বলেছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা রফিকুল বলেন, বর্তমানে মসজিদ ভবনের দেয়ালে ফাঁটল দেখা দিয়েছে। মসজিদের অজুখানা ইতোমধ্যেই ভাঙনের কবলে পড়েছে। মসজিদটি যেকোন সময় নদীতে তলিয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি, টেকসহ বাঁধ দিয়ে সংস্কারের ব্যবস্থা না নিলে মসজিদটি নদীগর্ভে হারিয়ে যাবে।
এ বিষয়ে সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের ২ এর উপ- বিভাগীয় প্রকৌশলী আশিকুর রহমান জানান, ঝাউডাঙ্গা মসজিদ সংলগ্ন ভাঙনের সংস্কারের কাজ শুর করছি খুব তাড়াতাড়ি কাজটি শেষ করা হবে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের ২এর নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রহমান তাযকিয়া কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি এই বিষয়ে অবগত আছি নির্দেশ দিয়েছি অতি অল্প সময়ে ঝাউডাঙ্গা মসজিদ সংলগ্ন সংস্কার কাজটি শেষ হবে।
Leave a Reply