
নিজস্ব প্রতিবেদক: সাতক্ষীরা জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা মোঃ আলমগীর হোসেন দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও এর বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে রাজনীতি করে আসছেন। দলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকার কারণে ২০১৩ সালে তৎকালীন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তার বিরুদ্ধে একাধিক নাশকতা ও গায়েবী মামলা দায়ের করা হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন। ওই মামলাগুলোর মধ্যে সাবেক এমপি কাজী আলাউদ্দিনের নামও অন্তর্ভুক্ত ছিল।
আলমগীর হোসেনের দাবি, ২০১৩ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত তিনি ঢাকায় আত্মগোপনে ছিলেন। পরে ২০১৫ সালের ২৮ জুন জামিনের বিষয়ে আইনজীবীর সঙ্গে পরামর্শ করতে সাতক্ষীরা জজ কোর্টে আসার সময় দুপুর ১.৩০ মিনিটের দিকে দেবহাটা থানার কুলিয়া ব্রিজ এলাকায় আসলে পুলিশ তাকে আটক করে। অভিযোগ অনুযায়ী, রাত ২টার দিকে নির্জন স্থানে নিয়ে তার চোখ বেঁধে বাম পায়ে গুলি করা হয়। দীর্ঘ চিকিৎসার পর সংক্রমণ ও জটিলতার কারণে তার বাম পা কেটে ফেলতে হয়।
তিনি আরও জানান, পরবর্তীতে মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়। বর্তমানে তার পরিবারে মোট আটজন সদস্য রয়েছেন। এক পা হারিয়ে পঙ্গুত্ব বরণ করেও তিনি দলীয় কার্যক্রমে সক্রিয় ছিলেন। সমিতি থেকে ঋণ নিয়ে একটি থ্রি-হুইলার (মাহেন্দ্র ১০ সিট) গাড়ি ক্রয় করে জেলা ও জেলার বাইরে দলীয় সভা-সমাবেশে নেতা-কর্মীদের বহন করেছেন। খুলনায় অনুষ্ঠিত বিএনপির মহাসমাবেশেও তিনি দু’বার অংশ নেন।
আলমগীর হোসেন বর্তমানে বিএনপির ৫১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটির সহ-সভাপতি পদে দায়িত্ব পালন করছেন বলে জানান। তিনি দাবি করেন, গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনায় সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে তিনি মামলা দায়ের করেছেন, যার মধ্যে সাতক্ষীরার সাবেক এসপি মঞ্জুরুল কবিরের নাম উল্লেখ রয়েছে। এ কারণে তিনি ও তার পরিবার নিরাপত্তা সংকটে আছেন বলেও অভিযোগ করেন।
তার ব্যক্তিজীবনেও নেমে এসেছে দুঃসহ কষ্ট। তার ১৮ মাস বয়সী কন্যা আয়েশা সিদ্দিকা হৃদরোগ ও রক্তজনিত জটিলতায় আক্রান্ত। ঢাকা ও খুলনার বিভিন্ন চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী জরুরি অস্ত্রোপচার প্রয়োজন, যার ব্যয় পাঁচ লক্ষ টাকার বেশি। আর্থিক সংকটে চিকিৎসা ব্যাহত হচ্ছে বলে জানান তিনি।
দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশে ফেরার পর গত ২০ জানুয়ারি ২০২৬ গুলশান কার্যালয়ে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন আলমগীর হোসেন। এ সময় তারেক রহমান আলমগীরের কন্যার চিকিৎসা ব্যয় বহনসহ সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন বলে জানা গেছে।
এক পায়ে ভর করে দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলার এই কর্মী বলেন, “আমি দল ও নেতার প্রতি আস্থাশীল। আমার সন্তানের চিকিৎসা ও পরিবারের নিরাপত্তাই এখন সবচেয়ে বড় চাওয়া।”
বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।
Leave a Reply