
আজকের সাতক্ষীরা দর্পণ ডেস্ক: শ্যামনগর এখন সাদা ফুলে ঢাকা। ঋতুরাজ বসন্তের আগমনে এই উপকূলীয় জনপদের প্রতিটি গ্রামে এখন সজিনা ফুলের মৌ মৌ গন্ধ। রাস্তার ধার, বসতবাড়ির আঙিনা কিংবা মাইলের পর মাইল বিস্তৃত চিংড়ি ঘেরের আইল সবখানেই এখন সজিনা ফুলের শুভ্রতা। কোথাও কোথাও ফুলের ভারে নুইয়ে পড়েছে গাছের ডাল। লোনা মাটির এই রুক্ষতায় সজিনার এই উদ্ভাস যেন এক পশলা প্রশান্তি নিয়ে এসেছে।
শ্যামনগর উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা এলাকা ঘুরে দেখা যায়, গত বছরের তুলনায় এবার সজিনার ফলন বেশি। স্থানীয় কৃষি অফিসের মতে, এখানকার সজিনা মূলত লবণসহিষ্ণু স্থানীয় প্রজাতির। উপজেলা কৃষি অফিসের উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা সুমন মন্ডল একে ‘জাদুর গাছ’ বলে অভিহিত করেছেন। তার মতে, সজিনা কেবল একটি সবজি নয়, এটি ‘পুষ্টির ডিনামাইট’। খুব একটা যতœ ছাড়াই নোনা মাটিতে আপন মহিমায় বেড়ে ওঠে এই গাছ।
উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, এবার ১০ হেক্টর জমিতে সজিনার আবাদ হয়েছে, যা গত বছর ছিল ৯ হেক্টর। প্রতি হেক্টরে এবার ৭ মেট্রিক টন ফলনের আশা করা হচ্ছে, গতবার যা ছিল ৬ মেট্রিক টন। মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত বাজারগুলোতে সজিনার রাজত্ব চলে।
সজিনা শুধু চোখের আরাম নয়, এটি উপকূলীয় কৃষকের পকেটে জোগাচ্ছে বাড়তি অর্থ। ভূরুলিয়া গ্রামের চাষি সুমন মন্ডল জানান, তার বাড়ির ১৫-২০টি গাছ থেকে প্রতি বছর ভালো আয় হয়। মৌসুমের শুরুতে প্রতি কেজি সজিনা ১০০ থেকে ১৫০ টাকা দরেও বিক্রি হয়।
পুষ্টিবিজ্ঞানীদের মতে, সজিনা এক ‘আশ্চর্য বৃক্ষ’। এর পাতা থেকে শুরু করে ডাঁটাসবই পুষ্টিগুণে ভরপুর। আয়ুর্বেদিক চিকিৎসায় এর পাতার ব্যবহার বহু পুরনো। গ্রামবাংলার সজিনা পাতার ভাজি কিংবা ডাঁটার চচ্চড়ি কেবল রসনাবিলাস নয়, বরং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর এক অব্যর্থ দাওয়াই।
শ্যামনগরের কৃষি বিভাগ এখন কৃষকদের শুধু গ্রীষ্মকালীন নয়, বরং বারোমাসি সজিনা চাষে উৎসাহিত করছে। ঘেরের পাড়, নদী-খালের ধার বা যেকোনো উঁচু স্থানে এই গাছ লাগিয়ে নোনা পরিবেশেও বিপ্লব ঘটানো সম্ভব বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
বসন্তের এই গোধূলিতে শ্যামনগরের বাতাসে এখন কেবল নোনা পানির গন্ধ নয়, মিশে আছে সজিনা ফুলের এক মায়াবী সুবাসযা আগামীর এক সমৃদ্ধ ফলনের জানান দিচ্ছে।
Leave a Reply