পাইকগাছার বিরাশী গ্রামে ৯০ ফুট রাস্তা পড়ে আছে অযত্নে আর অবহেলায়:

জাতীয় ফিচার সারাদেশ

 চলাচল ও পানি নিস্কাশনের একমাত্র মাধ্যম কালভার্টেরও বেহাল দশা : যেন দেখার কেউ নেই!

কাজী সোহাগ পাইকগাছা : খুলনার পাইকগাছা উপজেলার ২নং কপিলমুনি ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ড বিরাশী গ্রাম জুড়ে চলাচলের রাস্তায় ইটের সলিং থাকলেও ৯০ ফুট রাস্তা পড়ে আছে অযত্নে – অবহেলায়, যেন দেখার কেউ নেই!
উপজেলার কপিলমুনি ইউপির আগড়ঘাটা বাজার ভেদামাড়ী মোড় হতে মরহুম মাওলানা শামছুর রহমানের বাড়ি অভিমুখে বিরাশী নতুন পুকুর হয়ে পুর্ব দিকে বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মোঃ ছুরমান গাজীর বাড়ি পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার ইটের সলিং রাস্তা রয়েছে। এছাড়াও উক্ত গ্রামের আশেপাশে ভিতরের বিভিন্ন রাস্তা গুলোতেও রয়েছে ইটের সলিং। কিন্তু বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ছুরমান গাজীর বাড়ির সামনে কাদের সরদারের বাড়ির উত্তর পার্শ্বে একটি পুকুর সংলগ্ন হয়ে পশ্চিমে বিরাশী গ্রামের ভিতরের রাস্তাটি ইটের সলিং থাকলেও পুকুর সংলগ্ন হতে স্থানীয় পেশ ইমাম মোঃ সোহরাব গাজীর বাড়ি পর্যন্ত প্রায় ৯০ ফুট রাস্তা কাঁচাই রয়ে গেছে। আর উক্ত ৯০ ফুট রাস্তাটি বর্তমানে সংস্কারের অভাবে পড়ে আছে অযত্নে আর অবহেলায়।
এলাকাবাসী জানান, প্রায় দু’বছর আগে এই গ্রামের ভিতরের রাস্তাটি ইটের সলিং হলেও গ্রামে প্রবেশের রাস্তার শুরুতেই ৯০ ফুট রাস্তা কাঁচা থেকে যায়। এলাকার সকল রাস্তাগুলো ইটের সলিং হলেও বছরের পর বছর কাঁচা রাস্তারুপেই পড়ে আছে এই ৯০ ফুট চলাচলের রাস্তা।
এলাকাবাসী জানান, এই রাস্তাটি দিয়ে উক্ত গ্রামের প্রায় ৫ শতাধিক মানুষ প্রতিনিয়ত চলাফেরা করে। ৯০ ফুট চলাচলের উক্ত রাস্তাটি দিয়ে বর্ষা মৌসুম এলে এই গ্রামের মানুষ বাজার, মাঠ, ঘাট কিংবা মসজিদে যেতে হলে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। উক্ত রাস্তাটির বাকি অংশটুকু ইটের সলিং হলে এ গ্রামের মানুষ অনেক উপকৃত হবে। এদিকে উক্ত রাস্তাটির বাকি কাঁচা অংশটুকু দ্রুত সংস্কারের জন্য কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেন এলাকাবাসী।
এ বিষয়ে কপিলমুনি ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোঃ ইউনুস আলী মোড়ল জানান, আমি অল্প কিছুদিন ধরে উক্ত ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছি। তাই বিষয়টি আমার জানা ছিল না। তবে জনগুরুত্বপূর্ণ উক্ত গ্রামের মানুষদের জনদুর্ভোগ ও ভোগান্তি লাঘবে আমি অবশ্যই রাস্তাটির বাকি অংশ ইটের সলিং করে দেয়ার চেষ্টা করবো।
অন্যদিকে জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে চলাচল ও রাস্তার দু’পাশের খালের পানি নিস্কাশনের একমাত্র মাধ্যম কালভার্ট। যা দ্রুত সংস্কারের দাবিও জানান এলাকাবাসীহ পথচারীরা।
সরজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, উপজেলার ২নং কপিলমুনি ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের বারুইডাঙ্গা গ্রামের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ছুরমান গাজীর পোল্ট্রি খামার হতে মোহাম্মদ সরদারের বাড়ির অভিমুখে চলাচলের রাস্তার মধ্যবর্তী জায়গায় রাস্তার দু’পাশের খালের পানি নিস্কাশনের জন্য একমাত্র মাধ্যম “কালভার্টটি” জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে দীর্ঘদিন। যা যেকোন মুহূর্তে ভেঙে পড়ার মতো উপক্রম হয়েছে দাঁড়িয়েছে বর্তমানে।
এলাকাবাসী জানান, উক্ত রাস্তাটি দিয়ে, বারইডাংঙ্গা, বিরাশী ও শ্যামনগর গ্রামের প্রায় হাজারো মানুষ প্রতিনিয়ত চলাচল করে থাকে। এছাড়াও রাস্তার দু’পাশের খালের পানি নিস্কাশন হয় উক্ত কালভার্টটি দিয়েই। এদিকে কালভার্টটি জরাজীর্ণ হয়ে পড়ায় উক্ত রাস্তাটি দিয়ে বর্তমানে সবধরনের যানবাহন চলাচলে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। আর চরম ভোগান্তিতে পড়েছে উক্ত এলাকার পথচারীসহ এলাকাবাসী। কালভার্টটি দ্রুত সংস্কার করা না হলে চলতি বর্ষা মৌসুমে উক্ত রাস্তাটি চলাচলের জন্য একেবারেই অনুপযোগী হয়ে পড়বে বলে ধারণা করছেন সচেতন মহল। তাই কালভার্টটি অতি দ্রুত সংস্কার করে চলাচলের সুব্যবস্থাসহ যাতে এলাকাবাসীর ভোগান্তির অবসান ঘটে এই লক্ষ্যে কর্তৃপক্ষের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনাও করেন এলাকাবাসী।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কপিলমুনি ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোঃ বদরুল আলম জানান, ইতিপূর্বে কালভার্টটি সংস্কারের লক্ষ্যে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রাজিব বিশ্বাসকে অবগত করা হয়েছে। আশা করছি তিনি দ্রুত এলাকাবাসীর ভোগান্তি লাঘবে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রাজিব বিশ্বাস বলেন, ইতিপূর্বে এ বিষয়ে একটি আবেদন পেয়েছি। বর্তমানে কোন বরাদ্দ নেই। তবে দ্রুত পরিদর্শন করে রিপোর্ট পাঠাবো যাতে যথাসম্ভব দ্রুত সমস্যার সমাধান হয়।

Share this news as a Photo Card

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *