প্রতাপনগরে সাতার দিয়ে মসজিদে আযান ও নামাজ আদায় করেন ইমাম

নিজস্ব প্রতিনিধি: আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগরে নদী ভাঙ্গনের ফলে পানিতে তলিয়ে গেছে, রাস্তা ঘাট, মৎস্য ঘের, বিলিন হয়েছে ফসলী জমি ও জনবসতি এলাকা। নদীর জোয়ারের পানিতে প্লাবিত পুরো প্রতাপনগর ইউনিয়ন। এ ইউনিয়নের মধ্যে হাওলাদার বাড়ি জামে মসজিদের সম্মুখের রিং বেড়িবাঁধ ভেঙে যাওয়ায় নতুন করে প্লাবিত হয় হাওলাদার বাড়ি সহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকা। নদীর জোয়ারের পানি মসজিদের ভিতর প্রবেশ করায় মুসল্লীদের নামাজ আদায়ে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়। এ মসজিদটি জামে মসজিদ হওয়ায় হাদিস অনুযায়ী কোন ওয়াক্তের আযান ও নামাজ বন্দ করার বিধান না থাকায় মসজিদের ইমাম হাফেজ মইনুর ইসলাম জোয়ারের পানি সাতার দিয়ে মসজিদে পৌছান। সময় অনুযায়ী ওয়াক্তের আযান এবং মসজিদের ভিতর দুই থেকে তিন ফুট পানি থাকায় দাঁড়িয়ে একাই নামাজ আদায় করেন তিনি। পরে নামাজ শেষে আবারও নদীর জোয়ারের পানি সাতার দিয়ে লোকালয়ে পৌছান তিনি। বিষয়টি ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছাড়লে মুহুর্তের মধ্যেই ভাইরাল হয়ে যায়। ভিডিও টিতে অতি দ্রুত ভাঙ্গন কবলিত আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগর ইউনিয়নে দ্রুত নতুন করে বেড়িবাঁধ দিতে জোর দাবি জানান সাধারণ মানুষ। এবিষয়ে জানতে চাইলে হাফেজ মইনুর ইসলাম বলেন, তিনি দীর্ঘ ৪বছর ধরে হাওলাদার বাড়ি জামে মসজিদে ইমাম হিসেবে নিয়োজিত আছেন। মসজিদটি জামে মসজিদ হওয়ায় যে কোন ভাবেই হাদিস অনুযায়ী মসজিদে আযান ও নামাজ আদায় করতে হবে। সে লক্ষ্যে আমি নিয়মিত মসজিদে আযান ও নামাজ আদায় অব্যহত রেখেছি। যতদিন নদী ভাঙ্গন রোধ না হবে ততদিন তিনি এভাবেই প্রতিনিয়ত জোয়ারের পানি সাতার দিয়ে মসজিদে পৌছাবেন বলে জানান তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *