সাতক্ষীরাসহ সারাদেশে ডেঙ্গুর দাপট বাড়ছে, হাসপাতালেও ঠাঁই নেই

জাতীয় ফিচার সাতক্ষীরা-জেলা সারাদেশ

ন্যাশনাল ডেস্ক: ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দেশের হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপও দ্রুত বাড়ছে। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে নির্ধারিত শয্যার বাইরে মেঝে ও বারান্দায় রোগীদের চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। কোথাও কোথাও একটি শয্যায় একাধিক রোগীকে রাখার ঘটনাও ঘটছে। এর মধ্যেই এক দিনে ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তির সর্বোচ্চ রেকর্ড হয়েছে।
সাতক্ষীরা স্বাস্থ্য বিভাগের ১৬ সেপ্টেম্বরের ডেঙ্গু সংক্রান্ত রিপোর্টে বলা হয়েছে, ২৪ ঘন্টায় সাতক্ষীরায় নতুন আক্রান্ত হয়েছে ২২ জন। হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ৫৭ জন। জানুয়ারী থেকে জেলায় মোট আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৩৮৬ জন। অন্যত্রে রেফার করা হয়েছে ৮ জন এবং হাসপাতাল ছেড়েছেন ৩২২ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৫৯৩ জন। এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬৪ জনে। এর মধ্যে শুধু সেপ্টেম্বরের প্রথম ১৫ দিনেই মারা গেছেন ৬৭ জন।
একই সময়ে হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন ১ হাজার ৫৬৬ জন। চলতি বছর এ পর্যন্ত ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৫৫ হাজার ১৬৩ জন। চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ৫০ হাজার ৯৪১ জন।
সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকার হাসপাতালগুলোতে ১৭১ জন এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকার হাসপাতালে ১৩২ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। দুই সিটি করপোরেশনের বাইরে ঢাকা বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৩৮৩ জন।
ঢাকার বাইরে বরিশালে ১৫৯, চট্টগ্রামে ১৬৫, খুলনায় ২৯০, ময়মনসিংহে ৮২, রাজশাহীতে ১৩৭, রংপুরে ৬৫ এবং সিলেটে ৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। অর্থাৎ রাজধানীর পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন বিভাগেও ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। ফলে শুধু ঢাকার হাসপাতাল নয়, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ের চিকিৎসাকেন্দ্রগুলোতেও বাড়ছে চাপ।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, চলতি বছর আগস্টে ডেঙ্গুর সংক্রমণ ছিল সবচেয়ে বেশি। ওই মাসে ২০ হাজার ৫৩৬ জন হাসপাতালে ভর্তি হন এবং মারা যান ৪৩ জন। তবে সেপ্টেম্বরের প্রথমার্ধেই ৬৭ জনের মৃত্যু হওয়ায় মাসের শুরুতেই মৃত্যুর সংখ্যা আগস্টের পুরো মাসের মৃত্যুকেও ছাড়িয়ে গেছে। ডেঙ্গুর বর্তমান প্রবণতার মধ্যে অক্টোবরে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কীটতত্ত্ববিদ অধ্যাপক কবিরুল বাশার।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস এক সেমিনারে বলেন, সরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসায় শয্যা বা সুযোগ-সুবিধার সংকট হলে প্রয়োজনে বেসরকারি হাসপাতালে রোগী পাঠিয়ে চিকিৎসা নিশ্চিত করা হবে। সক্ষমতা অনুযায়ী হাসপাতালগুলোতে শয্যা বাড়ানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, শুধু রাজধানী নয়, ডেঙ্গুর প্রকোপ বেশি এমন এলাকাগুলোতে উপজেলা পর্যায়েও চিকিৎসাব্যবস্থা জোরদারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রাজধানীমুখী রোগীর চাপ কমিয়ে স্থানীয় পর্যায়েই ডেঙ্গণ রোগীদের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে চায় স্বাস্থ্য বিভাগ।

Share this news as a Photo Card

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *