কপোতাক্ষের তীর কেটে ইটভাটা: চরম ঝুঁকিতে বেড়িবাঁধ

ফিচার শ্যামনগর সাতক্ষীরা সদর সাতক্ষীরা-জেলা

নিজস্ব প্রতিনিধি: উপকূলীয় অঞ্চলে প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও জলোচ্ছ্বাসের বিরুদ্ধে প্রথম প্রতিরক্ষাব্যূহ হিসেবে কাজ করে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যানিয়ন্ত্রণ বেড়িবাঁধ। তবে খুলনার পাইকগাছায় কপোতাক্ষ নদের তীরের মাটি কেটে ইটভাটায় ব্যবহার করার যে চিত্র সামনে এসেছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
এফএফ ব্রিকস নামের একটি ইটভাটা বেড়িবাঁধের একেবারে কোল ঘেঁষে নদের তীর ও চরের মাটি গভীর পুকুরের মতো করে কেটে নিয়েছে। এতে আগামী যেকোনো জোয়ার বা প্রাকৃতিক দুর্যোগে বাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। জনস্বার্থ ও পরিবেশকে তোয়াক্কা না করে ক্ষমতার দাপট বা ব্যবসার অজুহাতে এ ধরনের অবৈধ কর্মকা- কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
ইটভাটার মালিকপক্ষ লিজ নেওয়া জমির অজুহাত দিয়ে কিংবা চরের মাটি জোয়ারে আবার ভরাট হয়ে যাবেÑএমন খোঁড়া যুক্তি উপস্থাপন করে তাঁদের দায় এড়াতে পারেন না। আইনের স্পষ্ট বিধান রয়েছে যে বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধ ও নদের সুরক্ষা অঞ্চলের মধ্য থেকে কোনো অবস্থায় মাটি কাটা যাবে না। বাঁধ ঝুঁকিতে ফেলে নদের চর ও তীর খনন করা কেবল পরিবেশ আইনই নয়, বরং রাষ্ট্রীয় সম্পদের ক্ষতি সাধন ও জননিরাপত্তা বিপন্ন করার শামিল। তদুপরি, এসব ভাটার অনিয়ন্ত্রিত ধোঁয়া ও ছাই কাছের বোয়ালিয়া বীজ উৎপাদন খামারের ফসলের মারাত্মক ক্ষতি করছে, যা প্রত্যক্ষভাবে কৃষি উৎপাদনের ওপর আঘাত হানছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে এই প্রক্রিয়াকে বেআইনি ও অপরাধ হিসেবে স্বীকার করা হলেও বাস্তবে তাঁদের কার্যকর পদক্ষেপে ঢিলেমি লক্ষণীয়। কেবল ‘আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে’ এমন মৌখিক হুঁশিয়ারিতে অবৈধ মাটি কাটা থামানো সম্ভব নয়। প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের অবিলম্বে সরেজমিনে তদন্ত চালিয়ে অভিযুক্ত ইটভাটার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে নদের তীর পুনর্র্নিমাণ এবং বেড়িবাঁধ স্থায়ীভাবে সুরক্ষিত করতে দ্রুত টেকসই ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে যেকোনো মুহূর্তে পুরো এলাকা নদীগর্ভে তলিয়ে গিয়ে অপূরণীয় ক্ষতি ডেকে আনবে।

Share this news as a Photo Card

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *