কোটি টাকায় নির্মিত পিচের রাস্তা এখন ‘কাদার মহাসড়ক’: চরম দুর্ভোগে কুশখালী ইউনিয়নবাসী

ফিচার সাতক্ষীরা সদর সাতক্ষীরা-জেলা

আজকের সাতক্ষীরা দর্পণ ডেস্ক: সাতক্ষীরা সদরের কুশখালী ইউনিয়নে সদ্য সমাপ্ত হওয়া কোটি টাকার একটি পিচের রাস্তা সামান্য বৃষ্টিতেই ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। পিচ ও পাথরের আস্তরণ ধুয়ে-মুছে গিয়ে রাস্তাটি এখন সম্পূর্ণ কাদামাটিতে রূপ নিয়েছে, যা দেখে বোঝার উপায় নেই এটি কোনো পাকা রাস্তা ছিল নাকি ধানি জমি।
​স্থানীয় বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের দাবির মুখে সম্প্রতি বিপুল ব্যয়ে এই রাস্তাটির পিচকরণের কাজ শেষ হয়। কিন্তু নির্মাণের কিছুদিন যেতে না যেতেই সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তাটি করুণদশায় পরিণত হয়েছে। রাস্তাটি দিয়ে মাটি বহন করার কারণে বাহন থেকে মাটি পড়ে এ দশার সৃষ্টি হয়েছে বলে দাবি করেন স্থানীয়রা। স্থানীয়দের দাবি মাটিবাহী ট্রলি, হল্লাগাড়ি ও মিনিট্রাকে করে মাটি বহন করার সময় রাস্তায় চ্যাঙ-চ্যাঙ (মাটির বড় দলা) মাটি পড়ে। পরে সেই মাটি যানবাহনের চাকায় পিষ্ট হয়। এরপর শুকনোর সময় হয় ধুলো আর বৃষ্টির সময় কাদা। এভাবে পুরো রাস্তাটি জুড়ে ঘন কাদার আস্তরণ জমে আছে এবং এর মাঝখান দিয়ে চলে গেছে গাড়ির চাকার গভীর দাগ।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল জলিল, মহিদ, শফিকুল ইসলাম, আতাউর রহমান, সিরাজুল ইসলাম, মর্জিনা বেগমসহ অনেকেই জানান এই পিচ্ছিল ও বিপজ্জনক রাস্তার কারণে প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা। ইজিবাইক, ভ্যান, মোটরসাইকেল তো দূরের কথা, সাধারণ মানুষের পায়ে হেঁটে চলাচলেরও কোনো উপায় নেই। সামান্য অসাবধানতায় পথচারীরা পিছলে পড়ে আহত হচ্ছেন বলে জানান আব্দুল হাই ও জোবায়ের হোসেন নামের বাইকচালক। মিজানুর রহমানসহ ব্যবসায়ীরা জানান, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, অফিসগামী মানুষ এবং কৃষিপণ্য পরিবহনে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয়রা। বিশেষ করে কোনো জরুরি রোগী হাসপাতালে নেওয়ার মতো পরিস্থিতি এখন আর এই রাস্তায় নেই। এতে করে সদ্য নির্মিত রাস্তাটির সর্বনাশ হচ্ছে। পিচ গলে যাচ্ছে আর পাথর উঠে যাচ্ছে।
স্থানীয় কৃষক আঃ কুদ্দস প্রশ্ন ছুঁড়ে বলেন সামান্য বৃষ্টিতেই যদি পিচের রাস্তা মাঠের কাদা হয়ে যায়, তবে সরকারি টাকার এমন অপচয় কেন? সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের গাফিলতির কারণেই আজ আমাদের এই দশা।”​ স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, অনতিবিলম্বে এই রাস্তাটির এমন দূরবস্থার পেছনের কারণ তদন্ত করা হোক এবং রাস্তাটির দুরাবস্থার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের সংশ্লিষ্ট আইনের আওতায় আনা হোক। অন্যথায় এই জনপদে জনদুর্ভোগ আরও চরম আকার ধারণ করবে।

Share this news as a Photo Card

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *