সাতক্ষীরায় ক্রেতা লাঞ্ছিত ও হুমকির অভিযোগ: মা মোটরস শোরুমের জিল্লুর বিরুদ্ধে

ফিচার সাতক্ষীরা সদর সাতক্ষীরা-জেলা

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা শহরের একটি মোটরসাইকেল শোরুমে ক্রেতাকে লাঞ্ছিত করা, শোরুমে আটকে রেখে হুমকি ও মারমুখী আচরণের অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার দুপুরে পাইকগাছা থেকে সাংবাদিক মোস্তাক আহমেদ ও আবু তাহের পুরাতন মোটরসাইকেল কেনার উদ্দেশ্যে সাতক্ষীরায় আসেন। পছন্দের একটি মোটরসাইকেল নেওয়ার পর তারা বৈধ কাগজপত্র যাচাই করতে চাইলে শোরুম সংশ্লিষ্টরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন।
শহরের পলাশপোল এলাকায় অবস্থিত মা মোটরস এর নিকট থেকে ক্রয়কৃত মটরসাইকেল এর কাগজপত্র যাচাই করতে গেলে শোরুম মালিক জিল্লুর রহমান ও তার কর্মচারী আইয়ুব আলী তাদের সঙ্গে মারমুখী আচরণ করেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। একপর্যায়ে তাদের শোরুমে আটকে রেখে গালিগালাজ ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয় বলেও ভুক্তভোগীদের দাবি।
ভুক্তভোগীরা আরও বলেন , এ সময় তাদের প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়। পরে সাতক্ষীরা সদর থানার পুলিশ তাদের কে উদ্ধার করে।
এ ঘটনায় সাংবাদিক আবু সাঈদ বাদী হয়ে জিল্লুর রহমান ও আইয়ুব আলীর বিরুদ্ধে সাতক্ষীরা সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
এদিকে স্থানীয়ভাবে আরও অভিযোগ রয়েছে জিল্লুর রহমানের বিরুদ্ধে অতীতে বিভিন্ন সময় চোরাচালান ও মাদক সংশ্লিষ্টতার সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে এবং জিল্লুর রহমান শ্রমিক লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে ঐ সময় ব‍্যাপক ক্ষমতা দেখিয়েছে। সাতক্ষীরা পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর শফিকউদ্দৌলা সাগর এপ্রনিধিকে বলেন জিল্লুর রহমান অল্প সময়ে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন এবং বিভিন্ন সময় বিতর্কিত কর্মকাণ্ডেও তার নাম এসেছে।
অন্যদিকে ভুক্তভোগী রনি অভিযোগ করে বলেন, তিনি ওই প্রতিষ্ঠান থেকে একটি FZ ফেজার মোটরসাইকেল কিনে এক লাখ টাকা অগ্রিম দেন। পরে বকেয়া টাকার কারণে তিনি বাইরে থাকাকালে তার মোটরসাইকেলটি জোরপূর্বক নিয়ে যাওয়া হয় বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি আরও গত ১১ মাস ধরে একাধিকবার যোগাযোগ করেও সমস্যার কোনো সমাধান পাননি। তার অভিযোগ, গাড়ির কাগজপত্র আটকে রেখে ও নানা অজুহাতে ভোগান্তিতে ফেলা হয়।
ভুক্তভোগীদের দাবি, এ ধরনের একাধিক অভিযোগ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে রয়েছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
অভিযুক্ত জিল্লুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করে বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করেও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *