বুধহাটা বাজারে ফুটপাত দখল করে দোকান,ক্রেতা-বিক্রেতারা চরম বিপাকে


মইনুল ইসলাম, আশাশুনি ব্যুরোঃ আশাশুনি উপজেলার বুধহাটা বাজারের ফুটপাত দখল করে দোকান বসানোয় ক্রেতা-বিক্রেতারা চরম বিপাকে পড়েছেন। অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় একের পর এক ফুটপাত ও বাজার সড়ক দখলের ঘটনা বেড়েই চলেছে।
বুধহাটা বাজার জেলার মধ্যে একটি প্রধানতম মোকাম। প্রতিদিন বাজারে হাজার হাজার মানুষের আগমন ঘটে। এছাড়া, সোমবার ও শুক্রবার সপ্তাহে ২ দিন হাট বসে। পেরিফেরি ভুক্ত বাজারের অধিকাংশ ফুটপাত স্থায়ী ভাবে দখল করে রেখেছে ব্যবসায়ীরা। ক্রমে ক্রমে ফুটপাতসহ বাজারের অভ্যন্তরের চলাচলের সড়কগুলোর অর্ধেকের বেশি অংশ দখল করে রেখেছে তারা। ফলে বাজারে আগত পথচারীদের চলাফেরায় চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। বাজারে আগত ক্রেতা সাধারণ তাদের সাইকেল, মটর সাইকেল রেখে বাজার করার কোন সুযোগ নেই। জামে মসজিদ, কলেঃ স্কুলের সামনে দিয়ে খেয়াঘাট পর্যন্ত বাজারের মেইন সড়ক, ঠাকুর বাড়ির সামনে থেকে গাজী মার্কেট হয়ে কাচাঁবাজার সড়ক, নীমতলা থেকে চাউল বাজার, কাচাঁবাজর সড়কসহ অন্য সকল সড়কে স্থায়ী দোকানের সামনে দোকানীরা, সাথে সাথে সুবিধামত স্থানে পোল্ট্রি দোকান, ফলের দোকান, কাঁচা মালের দোকান বসানো হয়েছে। এ ছাড়া, কাপড়ের দোকান, ভাজার দোকান, আটনের দোকান বসিয়ে রাস্তার বড় অংশ দখল করে রাখা হয়েছে। বাধ্য হয়ে পথচারীদেরকে ফুটপাত না পেয়ে সড়কের উপর দিয়ে চলাচল করতে বাধ্য হন। সাইকেল, মটর সাইকেল নিয়ে বাজার করতে যাওয়া ক্রেতারা সড়কের উপর যানবাহন রেখে ক্রয় কাজ সারতে বাধ্য হন। ফলে প্রতিনিয়ত যানজট, গোলযোগ ও সমস্যা লেগেই রয়েছে।
এছাড়া, বুধহাটা কাঁচা বাজার সড়ক, চাউল চান্নি, মিষ্টির চান্নি ও গোশের চান্নির দখল নিয়ে রয়েছে নানা মুখরোচক কথা। কাঁচা বাজার সড়কে দোকানীরা সড়কের অর্ধেকের বেশি অবৈধ ভাবে দখল করে রাখার পাশাপাশি শহীদ মিনারের সামনে গুরুত্বপূর্ণ ৩ রাস্তার মুখে দখল নিয়ে কাচামাল দোকান বসানোয় যানবাহনের চলাচল ও পথচারীর যাতয়াতে ব্যাপক সমস্যায় ফেলেছে। পুরাতন চাউল চান্নি ও মিষ্টির চান্নি এখন চা দোকানীদের দখলে। এছাড়া বাজারের প্রতিটি অলিগলির রাস্তা ও ফুটপাত স্থানীয় দোকানীরা তাদের মালামাল সড়ক পর্যন্ত টেনে এনে রাখা ও দোকান সামনে আনায় বিপত্তির অন্ত নেই। সড়ক দখলের পাশাপাশি কাঁচা বাজার সড়কে প্রতিটি ব্যবসায়ী ফুটপাতের সাথে সাথে সড়কের উপরের অংশ দঁড়ির সাহায্যে পলিথিন দিয়ে চাউনি করায় বিপত্তি অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে।
রাতে বাজার পাহারার কাজে নিয়োজিত একাধিক পাহারাদার জানান, কোন বড় ধরনের আওয়াজ হলে পলিথিনের কারনে উচু স্থান থেকে নিচের কিছুই দেখা যায় না। যদি কেউ পলিথিনের উপরের কোন স্থানে লুকিয়ে থাকে তবে তাকে খুঁজে বের করা কষ্ট সাধ্য হয়ে পড়ে। এমনকি বাজারের মধ্যে অগ্নিসংযোগের মত ঘটনা ঘটলেও পলিথিন ও দঁড়ির কারণে ফায়ার সার্ভিসের যানবাহন বাজারে প্রবেশ করা একেবারেই অসম্ভব বলে জানান স্থানীয় সচেতন মহল।
এব্যাপারে জানতে চাইলে বুধহাটা বাজার বণিক সমিতির সভাপতি মঞ্জরুল ইসলাম মহিদ জানান, অভিযুক্ত দোকানীদের একাধিক বার এবিষয়ে অবগত করা হয়েছে। অবৈধ দখল, পরিবেশ দূষণ ও নিয়ম ভঙ্গ করলে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে অবহিত পূর্বক তাদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বাজার বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ফারুক ঢালী বলেন, ব্যবসায়ীদের খামখেয়ালীপনা, সড়ক দখল, পলিথিন টানিয়ে রাখা, নির্দেশনা ভঙ্গ করে গভীর রাত পর্যন্ত ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খোলা রাখার বিষয়ে একাধিক অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব অনিয়ম বন্দ না হলে বাজারের শৃঙ্খলা বজায় রাখা ও নিরাপত্তা জোরদার করা একেবারেই অসম্ভব। তবে অতিদ্রুতই এসব সমস্যার সমাধান করা হবে বলে জানিয়েছেন বণিক সমিতি নেতৃবৃন্দ।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *