
আজকের সাতক্ষীরা দর্পণ ডেস্ক: আগামী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বেশ আগেভাগেই রণকৌশল সাজাতে শুরু করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। এরই ধারাবাহিকতায় সাতক্ষীরা জেলার সাতটি উপজেলার জন্য পূর্ণাঙ্গ প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করেছে দলটি। শনিবার (১৪ মার্চ) জেলা জামায়াতের আমির ও নির্বাচন বিভাগীয় দায়িত্বশীলদের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তালিকা প্রকাশ করা হয়।
প্রকাশিত তালিকায় দেখা গেছে, প্রতিটি উপজেলাতেই চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান এই তিন পদেই একক প্রার্থী মনোনীত করেছে সংগঠনটি। সাতক্ষীরা সদর থেকে শুরু করে শ্যামনগর পর্যন্ত প্রতিটি জনপদে নিজেদের সাংগঠনিক শক্তিমত্তা জানান দিতেই এই আগাম প্রস্তুতি বলে মনে করছেন স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
সূত্রমতে, তালা উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে ডা. মাহমুদুল হককে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। তাঁর সঙ্গে ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে থাকছেন অধ্যাপক গাজী সুজাআত আলী ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে তাহেরা খাতুন। কলারোয়া উপজেলায় মাওলানা ওমান গণিকে উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে রেখে মাওলানা কামারুজ্জামান ও মাহফুজা বেগমকে নিয়ে নির্বাচনী প্যানেল সাজানো হয়েছে।এদিকে, জেলা সদরের গুরুত্বপূর্ণ আসনে প্রার্থী করা হয়েছে শহিদ হাসানকে। তাঁর সহযোগী হিসেবে ভাইস চেয়ারম্যান পদে লড়বেন প্রভাষক মো. ওমর ফারুক ও রাজিয়া সুলতানা। আশাশুনি উপজেলায় মাওলানা নূরুল আবছারের নেতৃত্বে নির্বাচনী লড়াইয়ে নামছেন অ্যাডভোকেট আব্দুস সোবহান মুকুল ও শরিফা মনির। দেবহাটা উপজেলায় চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে মনোনীত হয়েছেন মাহবুবুল আলম। কালীগঞ্জে দলীয় প্যানেলের নেতৃত্বে রয়েছেন জেলা সেক্রেটারি মাওলানা আজিজুর রহমান। আর উপকূলীয় অঞ্চল শ্যামনগরে মাওলানা আব্দুর রহমানকে চেয়ারম্যান প্রার্থী করে মাওলানা মঈনুদ্দীন মাহমুদ ও প্রভাষক নূরুন্নাহার ইতিকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। তালিকায় স্থান পাওয়া প্রার্থীদের প্রায় সবাই বর্তমানে সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন। জেলা কর্মপরিষদ সদস্য থেকে শুরু করে উপজেলা আমির কিংবা জেলা মহিলা বিভাগীয় সেক্রেটারিদের নাম দেখা গেছে এই তালিকায়। অভিজ্ঞ এবং সাংগঠনিকভাবে দক্ষ ব্যক্তিদেরই নির্বাচনের মাঠে নামাচ্ছে দলটি।
মনোনয়ন চূড়ান্ত করার পাশাপাশি প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণার বিষয়েও সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, প্রার্থীরা এখন থেকে সংশ্লিষ্ট উপজেলা সংগঠনের সঙ্গে সমন্বয় করে অনলাইন ও ডিজিটাল মাধ্যমে প্রচার চালাতে পারবেন। বিশেষ করে আসন্ন ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা সম্বলিত ফেস্টুন ও ব্যানার ব্যবহারের মাধ্যমে জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। নির্বাচনী ডামাডোল এখনো সেভাবে শুরু না হলেও সাতক্ষীরায় জামায়াতের এই আগাম প্রার্থী ঘোষণা জেলার রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার সূচনা হয়েছে।
Leave a Reply