
কাজী সোহাগ পাইকগাছা: টানা এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে অবিরাম মুষলধারে বৃষ্টিতে উপকূলীয় উপজেলা পাইকগাছার নিম্মাঞ্চল, মাছের ঘের ও পুকুর প্লাবিত হয়েছে। উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার বিস্তৃীর্ণ অঞ্চলের শত শত মৎস্যঘের ও ব্যক্তিগত পুকুরঘাট তলিয়ে গিয়ে ঘেরের মাছ ভেসে একাকার হয়ে গেছে। এতে কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছেন স্থানীয় মৎস্য চাষিরা।
সরেজমিনে চাঁদখালী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর গড়ের আবাদ গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, কমলাপুর মৌজার বিলে ডিপ-মেশিন চালিত মৎস্যঘেরগুলোর বাঁধ টানা বৃষ্টিতে সম্পূর্ণ পানির নিচে তলিয়ে গেছে। শত শত বিঘা জুড়ে এখন শুধুই থৈ থৈ পানি। বাঁধ উপচে একাধিক ব্যক্তির পুকুরের মাছ বিভিন্ন ঘেরে ও উন্মুক্ত জলাশয়ে ভেসে গেছে। উত্তর গড়ের আবাদ গ্রামের কৃষক আবুল কাশেম সরদার বলেন, এমনিতেই ডিপ-মেশিনের মাধ্যমে পানি তোলার কারণে বিলের ঘেরগুলোর বাঁধ কানায় কানায় পূর্ণ ছিল। তার ওপর চলতি মৌসুমে এই টানা ভারী বৃষ্টিতে পুরো বিলের ঘেরের বাঁধ ও পুকুরঘাট তলিয়ে সব একাকার হয়ে গেছে। আমাদের সব শেষ হয়ে গেল। মুষলধারে বৃষ্টিতে পাইকগাছা উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার ও শুক্রবারের ভারী বর্ষণে পরিস্থিতির আরও মারাত্মক অবনতি ঘটে। পানি নিষ্কাশনের পর্যাপ্ত ও দ্রুত ব্যবস্থা না থাকায় এই জলাবদ্ধতা দীর্ঘস্থায়ী রূপ নিচ্ছে। রাস্তাঘাট কাদা ও নোংরা পানিতে ডুবে থাকায় যানবাহন চলাচল যেমন ব্যাহত হচ্ছে, তেমনি সাধারণ মানুষকে চরম দুর্ভোগের মধ্য দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।
প্রয়োজনীয় কাজে বের হওয়া পথচারী, দিনমজুর এবং স্থানীয় ব্যবসায়ীরা চরম আর্থিক ও শারীরিক ভোগান্তিতে পড়েছেন। কোথাও কোথাও ঘরবাড়ির আঙিনা ছাড়িয়ে শয়নকক্ষে পানি প্রবেশ করায় এবং রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওয়ায় হাজার হাজার মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হয়েছেন। পানি নিষ্কাশনের কার্যকর পথ না থাকায় থমকে গেছে নিম্নআয়ের মানুষের উপার্জনের চাকা, স্থবির হয়ে পড়েছে পুরো উপজেলার স্বাভাবিক জনজীবন।
জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রশাসনের পক্ষ থেকে উদ্ধার ও নিষ্কাশন তৎপরতা শুরু হয়েছে। বর্তমানে পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের স্লুইসগেট দিয়ে দ্রুত পানি অপসারণের কাজ দিনরাত ২৪ ঘণ্টা অব্যাহত রয়েছে। গেটের দায়িত্বে থাকা ইব্রাহীম মোল্লা পানি দ্রুত নামানোর জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, বৃষ্টির তীব্রতা কিছুটা কমলে এবং এই নিষ্কাশন প্রক্রিয়া সচল থাকলে পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসবে।
পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরী বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসনে এবং দুর্গতদের ভোগান্তি কমাতে দ্রুত পানি নিষ্কাশনের লক্ষ্যে প্রশাসনের সার্বিক তৎপরতা ও মনিটরিং অব্যাহত রয়েছে। পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক করতে আমরা সব ধরনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছি।
