
সদর প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার বেতনা নদীর তীরে সামাজিক বনায়নের আওতায় দুই হাজার বৃক্ষরোপণ এবং শ্যামনগরে ১০ লাখ রোপিত বীজের সুরক্ষায় সমন্বিত উদ্যোগের খবরগুলো অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। বারবার ঘূর্ণিঝড়, জলচ্ছ্বাস ও লবণাক্ততার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখোমুখি হওয়া দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলীয় অঞ্চলের জন্য এ ধরনের পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ কেবল সবুজায়নের কর্মসূচি নয়, বরং এটি জীবন ও জীবিকা সুরক্ষার এক মৌলিক তাগিদ।
সাতক্ষীরা সদরের ধুলিহর ইউনিয়নে তেঁতুলডাঙ্গা গ্রামে বেতনা নদীর তীরে স্থানীয় প্রশাসনের তত্ত্বাবধান ও তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণে কদবেল, তেঁতুল, গোলপাতা, বাবলা ও কেওড়াসহ বিভিন্ন দেশীয় ও উপকূলীয় প্রজাতির গাছ রোপণ করা হয়েছে। এই প্রজাতির গাছগুলো নদীতীরবর্তী মাটি ধরে রাখা, ভূমিক্ষয় রোধ এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে কার্যকর ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে, জলবায়ু পরিবর্তনসংক্রান্ত সচেতনতা ও জীবন দক্ষতার শিক্ষাকে বাস্তব উদ্যোগে রূপ দিয়ে শিশুনারী ও তরুণদের এসব কর্মসূচিতে সম্পৃক্ত করা সামাজিক দায়বদ্ধতা বৃদ্ধির চমৎকার একটি উদাহরণ।
তবে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো চারা রোপণের পর তার নিয়মিত পরিচর্যা ও সুরক্ষার অভাব। শ্যামনগরে বারসিকের যৌথ উদ্যোগে ১০ লাখ চারা সুরক্ষায় ঘের নির্মাণ, পাহারা দেওয়া ও অর্থ সংস্থানের যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। গাছ লাগানো যতটা সহজ, তা টিকিয়ে রাখা এবং একটি পূর্ণাঙ্গ সবুজ বেষ্টনীতে রূপ দেওয়া ততটাই কঠিন। সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে বহু ইতিবাচক উদ্যোগ অতীতে ফলপ্রসূ হতে পারেনি। তাই চারা সুরক্ষা ও পরিচর্যার এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখা অপরিহার্য।
উপকূলীয় অঞ্চলে প্রাকৃতিক দুর্যোগের তীব্রতা ও লবণাক্ততার প্রসার প্রতিনিয়ত বাড়ছে। এ বাস্তবতা মোকাবিলায় শুধু সরকারি বা এনজিওভিত্তিক বিচ্ছিন্ন উদ্যোগ যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন স্থানীয় জনগোষ্ঠীর স্থায়ী অংশগ্রহণ এবং পর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দ। উপকূলজুড়ে টেকসই সবুজ বেষ্টনী গড়ে তুলতে নদীতীর ও খাস জমিগুলোতে এ ধরনের বনায়ন আরও জোরদার করতে হবে। বেতনা নদীর তীরে এবং শ্যামনগরে গৃহীত সচেতনতামূলক উদ্যোগগুলো দেশের অন্যান্য উপকূলীয় অঞ্চলেও অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হতে পারে। জলবায়ুসংকট থেকে উপকূলকে রক্ষা করতে স্থানীয় জনগণের এই সামাজিক আন্দোলনকে টিকিয়ে রাখা এবং ছড়িয়ে দেওয়াই এখন সময়ের দাবি।
