কালিগঞ্জে ড্রেজার দিয়ে খাল থেকে অবৈধ বালি উত্তোলনের অভিযোগ, প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তায় ক্ষোভ

কালিগঞ্জ ফিচার সাতক্ষীরা-জেলা

নিজস্ব প্রতিনিধি কালিগঞ্জ: সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার ১ নম্বর কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের চৌধুরআটি গ্রামের ঝুরঝুরিয়া খাল থেকে ড্রেজার মেশিন ব্যবহার করে অবৈধভাবে বালি উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রশাসনকে একাধিকবার অবহিত করা হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো অভিযান বা দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। এতে এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ বাড়ছে। গতকাল শনিবার সকাল ১০টায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ঝুরঝুরিয়া খাল থেকে ড্রেজার মেশিনের মাধ্যমে বালি উত্তোলন করা হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, উত্তোলিত বালি চৌধুরআটি গ্রামের একটি পুকুর ভরাটে ব্যবহার করা হচ্ছে এবং এ কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে একটি চক্র অর্থের বিনিময়ে বাণিজ্য পরিচালনা করছে।অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, চৌধুরআটি গ্রামের আরশাদ গাজীর ছেলে রফিকুল, অমেদ গাজীর ছেলে খোকন এবং আখতারুলের নেতৃত্বে একটি চক্র গত প্রায় এক সপ্তাহ ধরে ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মানপুর গ্রামের হাশেমের বাড়ির সামনের ঝুরঝুরিয়া খাল থেকে ড্রেজার মেশিনের মাধ্যমে বালি উত্তোলন করছে। এতে খালের স্বাভাবিক পানি প্রবাহ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের।এলাকাবাসীর অভিযোগ, বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি)-কে মোবাইল ফোনে একাধিকবার জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। ফলে অবৈধ বালি উত্তোলন অব্যাহত থাকায় জনমনে অসন্তোষ বাড়ছে।স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, খাল থেকে নির্বিচারে বালি উত্তোলনের ফলে খালের নাব্যতা হ্রাস, পরিবেশের ক্ষতি এবং বর্ষা মৌসুমে স্বাভাবিক পানি প্রবাহ ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে খালের তীর ভাঙনসহ নানা পরিবেশগত সমস্যা দেখা দেওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। তারা অবিলম্বে অবৈধ বালি উত্তোলন বন্ধ, জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ঘটনাটির নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী অনুমোদন ছাড়া খাল বা নদী থেকে বালি উত্তোলন নিষিদ্ধ। কিন্তু স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের নজর এড়িয়ে ড্রেজার মেশিন ব্যবহার করে প্রকাশ্যে এ কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া হলেও তা বন্ধে কার্যকর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।এ বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য জানার জন্য যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাদের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

Share this news as a Photo Card

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *