সাতক্ষীরা-২ আসনে কে কত সম্পদশালী, শিক্ষায় এগিয়ে কে?


আজকের সাতক্ষীরা দর্পণ ডেস্ক:
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে সংসদীয় আসন ১০৬, সাতক্ষীরা-২ (সদর-দেবহাটা) আসনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। বৈধ প্রার্থীদের জমা দেওয়া হলফনামা বিশ্লেষণে উঠে এসেছে আয়, সম্পদ ও শিক্ষাগত যোগ্যতার ভিন্ন ভিন্ন চিত্র।
সাতক্ষীরা-২ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মুহাদ্দিস মাওলানা আব্দুল খালেকের হলফনামা অনুযায়ী, কৃষি খাত থেকে তার বার্ষিক আয় ৭০ হাজার টাকা। নগদ অর্থ রয়েছে ২৫ হাজার টাকা এবং ব্যাংক লভ্যাংশ ৪৫ হাজার ৭৮৮ টাকা। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ক্লাস নেওয়ার সম্মানী বাবদ আয় দেখিয়েছেন ৩ লাখ টাকা।
তার গ্রামে ১১ শতক জমির ওপর একটি একতলা পাকা বসতবাড়ি রয়েছে, যার নির্মাণকালীন মূল্য ১৬ লাখ টাকা। এছাড়া ইলেকট্রনিক সামগ্রী রয়েছে ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা এবং আসবাবপত্র ১ লাখ টাকা মূল্যের। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমাকৃত অর্থ রয়েছে ১ লাখ ৬২ হাজার ৭০১ টাকা, স্থায়ী আমানত ১৩ লাখ ৯২ হাজার ১৩৭ টাকা এবং ব্যাংক শেয়ার ১০ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে তার মোট আয় দেখানো হয়েছে ১৮ লাখ ২৯ হাজার ৮৩৮ টাকা।
তার স্ত্রী মোছা. সাজেদা বেগমের নামে ৩ লাখ টাকা স্থায়ী আমানত ও ৩.৫ ভরি স্বর্ণ রয়েছে। মুহাদ্দিস মাওলানা আব্দুল খালেকের সর্বোচ্চ শিক্ষাগত যোগ্যতা কামিল এবং পেশা অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক।
সাতক্ষীরা-২ আসনে সম্পদের দিক থেকে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছেন বিএনপির প্রার্থী আব্দুর রউফ। তার হলফনামা অনুযায়ী, কৃষি, ব্যবসা ও অন্যান্য খাত থেকে তার বার্ষিক আয় ১৯ লাখ ৭৬ হাজার টাকা। এছাড়া ইউপি চেয়ারম্যান হিসেবে আয় দেখিয়েছেন ৫৪ হাজার টাকা।
তার নগদ অর্থ রয়েছে ৪১ লাখ টাকা, ব্যাংক ও শেয়ারে বিনিয়োগ রয়েছে ৩৮ লাখ ৭৬ হাজার ৭১৯ টাকা এবং একটি আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে, যার মূল্য দেখানো হয়েছে ১ লাখ টাকা। সব মিলিয়ে তার মোট সম্পদের পরিমাণ দেখানো হয়েছে ৪ কোটি ৮৬ লাখ ১৮ হাজার ৯৪৪ টাকা।
তার স্ত্রী আম্বিয়া খাতুনের নামে ব্যাংকে সঞ্চয় রয়েছে ১০ লাখ টাকা, কোম্পানির শেয়ার ৩ লাখ টাকা, ২০ ভরি স্বর্ণ এবং ২২ লাখ টাকা মূল্যের একটি ট্রাক। স্ত্রীর নামে মোট সম্পদের পরিমাণ দেখানো হয়েছে ১ কোটি ৪৬ লাখ ৬৫ হাজার টাকা।
আব্দুর রউফের সর্বোচ্চ শিক্ষাগত যোগ্যতা অষ্টম শ্রেণি এবং পেশা ব্যবসা।
সাতক্ষীরা-২ আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী মো. আশরাফুজ্জামান আশুর হলফনামা অনুযায়ী, ব্যবসা থেকে তার বার্ষিক আয় ৬ লাখ ৯৬ হাজার ৩২০ টাকা। নগদ অর্থ রয়েছে ৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা রয়েছে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা। তার নামে ৪ একর পৈত্রিক অকৃষি জমি এবং একটি দোতলা আধাপাকা আবাসিক ভবন রয়েছে। স্বর্ণ অলংকারের মূল্য দেখানো হয়েছে ৪০ হাজার টাকা। তার সর্বোচ্চ শিক্ষাগত যোগ্যতা বি.এ এবং পেশা ব্যবসা।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মুফতী ররিউল ইসলামের হলফনামা অনুযায়ী, কৃষি খাত থেকে বার্ষিক আয় ৪০ হাজার টাকা এবং শিক্ষকতা থেকে আয় ১ লাখ ৯৫ হাজার টাকা। নগদ অর্থ রয়েছে ১২ হাজার টাকা এবং ব্যাংকে জমা রয়েছে ৪ হাজার ৭৫৮ টাকা। তার একটি মোটরসাইকেল রয়েছে, যার মূল্য ৬৬ হাজার টাকা। এছাড়া ইলেকট্রনিক পণ্য ৭৮ হাজার টাকা, আসবাবপত্র ৫১ হাজার ৫০০ টাকা, স্বর্ণ ১ লাখ ২০ হাজার টাকা এবং রৌপ্য ১৪ হাজার টাকার তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। তার শিক্ষাগত যোগ্যতা ইফতা (কওমী বোর্ড) এবং পেশা শিক্ষকতা।
বাংলাদেশ জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ)-এর প্রার্থী মো. ইদ্রিস আলীর হলফনামা অনুযায়ী, শিক্ষকতা থেকে তার বার্ষিক আয় ৫ লাখ টাকা। নগদ অর্থ রয়েছে ৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা। তার স্ত্রীর নামে ব্যাংকে জমা রয়েছে ২ হাজার ১০০ টাকা। তার সর্বোচ্চ শিক্ষাগত যোগ্যতা এম.এ (ইংরেজি)।
আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)-এর প্রার্থী জি. এম. সালাউদ্দীনের হলফনামা অনুযায়ী, নগদ অর্থ রয়েছে ৫৭ হাজার ৮০০ টাকা এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা রয়েছে ৫০ হাজার টাকা। আসবাবপত্রের মূল্য দেখানো হয়েছে ৩০ হাজার টাকা। তার পেশা ভেটেরিনারি ব্যবসা এবং সর্বোচ্চ শিক্ষাগত যোগ্যতা এলএলএম।
লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি)-এর প্রার্থী শফিকুল ইসলাম শাহেদের হলফনামা অনুযায়ী, কৃষি খাত থেকে তার বার্ষিক আয় ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা। নগদ অর্থ রয়েছে ৩ লাখ টাকা।
তার নামে ৪৫ ভরি স্বর্ণ রয়েছে, যার মূল্য দেখানো হয়েছে ৫০ লাখ টাকা। এছাড়া ইলেকট্রনিক পণ্য রয়েছে ২ লাখ টাকা এবং আসবাবপত্রের মূল্য ১ লাখ টাকা। সব মিলিয়ে তার মোট আয় দেখানো হয়েছে ৬০ লাখ ৫০ হাজার টাকা। তার শিক্ষাগত যোগ্যতা এম.এস.এস এবং পেশা চাকরি।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *