1. nokhatronews24@gmail.com : ajkarsatkhiradarpan darpan : ajkarsatkhiradarpan darpan
  2. install@wpdevelop.org : sk ferdous :
সাতক্ষীরায় অসময়ে অতিবৃষ্টিতে আমন চাষের অন্তরায়: চাষির কপালে চিন্তার ভাঁজ - আজকের সাতক্ষীরা দর্পণ
রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬, ০৮:৪০ অপরাহ্ন
৪ঠা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ খবর :
📰সাতক্ষীরায় অর্ধেকে নেমেছে খেজুরের রস-গুড় উৎপাদন📰আশাশুনির প্রতাপনগরে বাড়ির মালিককে অজ্ঞান করে দস্যুবৃত্তি📰সাতক্ষীরা জেলা শ্রমিক দলের উদ্যোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া অনুষ্ঠান📰দেবহাটায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া অনুষ্ঠান📰আজ পবিত্র শবে মেরাজ📰সাতক্ষীরা-৩ আসনে কোন প্রার্থীর সম্পদশালী📰সংবাদ সংগ্রহে গিয়ে হামলার শিকার যমুনা টিভির প্রতিনিধি📰সেবা প্রত্যাশীদের ব্যক্তিগত উপাত্ত উদ্যোক্তাদের নিকট আমানত – ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব📰লাবসায় বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় মিলাদ ও দোয়া মাহফিল📰সাতক্ষীরা-২ আসনে কে কত সম্পদশালী, শিক্ষায় এগিয়ে কে?

সাতক্ষীরায় অসময়ে অতিবৃষ্টিতে আমন চাষের অন্তরায়: চাষির কপালে চিন্তার ভাঁজ

প্রতিবেদকের নাম :
  • হালনাগাদের সময় : রবিবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৪
  • ৬০ সংবাদটি পড়া হয়েছে

ফরিদ উদ্দীন সাতক্ষীরা: দুই-ফসলি জমিতে পরিপূর্ণ নোনা-দোঁআশ মাটির জেলা সাতক্ষীরা। এই জেলার বেশিরভাগ কৃষকই ধান এবং মাছ চাষের উপর নির্ভরশীল। তবে বিভিন্ন কারণে এ বছর আমন ধানের চাষ কম হয়েছে জেলায়। আর তাতেই বিকল্প চাষের দিকে ঝুঁকছেন অনেক চাষি। ধান চাষ কম হওয়ার কারণে এ বছর মাথায় হাত ঠেকেছে অনেক চাষির। মৌসুমের শুরুতে অনাবৃষ্টি আর অসময়ে অতি বৃষ্টি চাষিদের কপালে চিন্তার ভাঁজ তুলে দিয়েছে। চাষিরা জানান, এ বছর আষাঢ়-শ্রাবন মাসে আকাশ ছিলো বৃষ্টিহীন। সঠিক সময় বৃষ্টি না হওয়ার কারণে এ বছর সাতক্ষীরায় আমন চাষের ক্ষেত্রে নানাবিধ সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছে চাষিদের। চাষিরা সময় মতো আমনের বীজতলা তৈরি করতে পারেননি। ফলে সময় মতো আমন রোপন করতে পারেননি। অন্যান্য বছরে বিকল্প হিসেবে মাছ চাষ করে ক্ষতি পোষাতেন তারা। এবার যারা ধান চাষ করতে না পেরে মাছ চাষ করেছিলেন তাতে অসময়ে জল ঢেলে দিয়েছে ভাদ্রের আকাশ। এ বছর সেই জায়গা থেকেও ঘাটতি পড়ছে চাষিদের। এভাবে বলছিলেন সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ধুলিহর এলাকার কৃষক জাহাঙ্গীর কবির। তিনি বলেন, কপোতাক্ষ, বেতনা, মরিচ্চাপ নদীর তীরবর্তী ধুলিহর, ফিংড়ি, ব্রহ্মরাজপুর, লাবসা, বল্লী, ঝাউডাঙ্গা ইউনিয়নের বিলগুলোতে সদ্য রোপা আমন ও বীজতলা পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। পানি অপসারণের কোনো পথ না থাকায় বৃষ্টির পানি বাড়িঘরে উঠতে শুরু করেছে। সাতক্ষীরা শহরের মধ্য দিয়ে বয়ে যাওয়া প্রাণসায়ের খালও পানি টানতে পারছে না। প্লাবিত এলাকার কাঁচা ঘরবাড়ি ধসে পড়েছে। অতিবৃষ্টির ফলে গদাইবিল, ডাইয়ের বিল, শাল্যের বিল, বিনেরপোতার বিল, রাজনগরের বিল, চেলারবিল, কচুয়ার বিল, রামচন্দ্রপুর বিল, হাজিখালি বিল, আন্ধারমানিক বিল, ঢেপুরবিল, পালিচাঁদবিল, বুড়ামারা বিল, খড়িলের বিল, আমোদখালি বিল, মাছখোলার বিলসহ জেলার অন্তত ৫০টি বিলে পানি থই থই করছে। এসব বিলের মাছের ঘের ভেসে গেছে।
সাতক্ষীরায় টানা কয়েকদিনের স্বাভাবিক বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে জেলার নি¤œাঞ্চল। এতে সদ্য রোপা আমন ও আউশ ধানের জমি তলিয়ে গেছে। পানিবন্দী হয়ে পড়েছে শতাধিক পরিবার, ভেসে গেছে হাজার বিঘা মাছের ঘের ও ফসলি জমি। এদিকে সাতক্ষীরা পৌরসভার নিচু এলাকায় পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকায় অতিবৃষ্টিতে জলাবদ্ধতার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে জেলা শহরের নি¤œাঞ্চলে বসবাসকারী শতাধিক পরিবার। বেশকিছু এলাকায় মানুষের বাড়িঘরে পানি ঢুকে পড়েছে। বেতনা নদী তীরবর্তী এই বিলগুলোর পানি নদীতে যেতে পারছে না। এই পানি পৌরসভার দিকে এগিয়ে আসছে। অতিবৃষ্টিতে গ্রামাঞ্চলের প্রায় সব পুকুর পানিতে তলিয়ে গেছে।
জেলা সাংবাদিক এসোসিয়েশন সাতক্ষীরা এর যুগ্ম সম্পাদক কাজী মারুফ হোসেন দৈনিক আজকের সাতক্ষীরা দর্পণকে জানান, পৌরসভায় পানি নিষ্কাশনে যথাযথ ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় মানুষ বছরের পর বছর ধরে জলাবদ্ধতায় ভুগছে। স্বাভাবিক বর্ষণে তলিয়ে গেছে পৌরসভার ইটাগাছা, কামাননগর, রসুলপুর, মেহেদীবাগ, মধুমোল্লারডাঙ্গী, পলাশপোল, বকচরা, সরদারপাড়া, পুরাতন সাতক্ষীরা, রাজারবাগান, বদ্দিপুর কলোনি, ঘুড্ডিরডাঙি ও কাটিয়া মাঠপাড়াসহ বিস্তীর্ণ এলাকা। তিনি আরও জানান, গুটিকয়েক লোক পৌরসভার মধ্যে অপরিকল্পিত মাছের ঘের করার কারণে এই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে, বৃষ্টির পানিতে সয়লাব হয়ে গেছে উপকূলীয় উপজেলা শ্যামনগর, কালিগঞ্জ ও আশাশুনিসহ জেলার সাতটি উপজেলার নি¤œাঞ্চল। এসব এলাকার মাছের ঘের তলিয়ে গেছে। তলিয়ে গেছে রোপা আমন ধানের বীজতলা। অনেক এলাকায় বীজতলার ধানের চারায় পচন ধরেছে। ফলে জমিতে ধানের চারা রোপণ করতে পারবে কিনা তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। অনেকে আবার নতুন করে বীজতলা তৈরির জন্য বীজ ধান সংগ্রহের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
আশাশুনি উপজেলার সাংবাদিক মো: খায়রুল ইসলাম জানান, মানুষের জমিতে ব্রি-১০ ধানের বীজতলা বৃষ্টির পানিতে পচে নষ্ট হয়ে গেছে। নতুন করে আবার বীজতলা তৈরির জন্য ধান সংগ্রহের চেষ্টা করছেন তারা। কিন্তু ব্রি-১০ ধানের বীজ কোথাও পাওয়া যাচ্ছে না।
সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম দৈনিক আজকের সাতক্ষীরা দর্পণকে জানান, স্বাভাবিক বর্ষণে জেলার নি¤œাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এতে সদ্য রোপা আমন ও আউশ ধানের জমি তলিয়ে গেছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাদের জরিপ করে ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করে তালিকা পাঠাতে বলা হয়েছে। তিনি আরও জানান, ‘চলতি মৌসুমে জেলায় আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৭৮ হাজার ৭৭০ হেক্টর জমিতে, যা গত মৌসুমে ছিল ৭৮ হাজার ৬৮ হেক্টর জমি। তবে মৌসুমি বৃষ্টিপাত না হওয়া এবং অসময়ে অতি বৃষ্টির কারণে অধিকাংশ কৃষক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।’ তিনি কৃষককে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন।
সাতক্ষীরা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জুলফিকার আলী রিপন জানান, মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে গত কয়েকদিনে সাতক্ষীরায় ১২২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। সামনে এমন বৃষ্টিপাতের আরও সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান তিনি। তিনি আরও জানান, চলতি বর্ষা মৌসুমে সাতক্ষীরায় জুন মাসে ৫৪ মি. মি এবং জুলাই মাসে ৩১৪ মি. মি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, গত বছর জুন মাসে ২৯২ মি. মি এবং জুলাই মাসে ২২৯ মিমি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছিল।

আপনার সামাজিক মিডিয়ায় এই পোস্ট শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর :

সম্পাদক মণ্ডলীর সভাপতি:

এম এ কাশেম (পিএইচডি -গবেষক,এডুকেশন-মালেশিয়া) এম এ ক্রিমিনোলজি, এমবিএ-লন্ডন।).....01748159372

সম্পাদক ও প্রকাশক:

মো: তুহিন হোসেন (বি.এ অনার্স,এম.এ)...01729416527

© All rights reserved © 2020-2025
প্রযুক্তি সহায়তায়: csoftbd