
আবু সাঈদ ভ্রাম্যমান প্রতিনিধি সাতক্ষীরা : আশাশুনি উপজেলার তেঁতুলিয়া ও প্রতাপনগর এলাকায় বোরো ধানের ক্ষেতে লবণ পানি ঢোকানোর অভিযোগ উঠেছে। এতে প্রায় ৮ হাজার বিঘা জমির ধান চাষ ও স্থানীয় পরিবেশ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। লোনা পানি তোলা বন্ধ না হলে কয়েক হাজার কৃষক ফসল হারিয়ে নিঃস্ব হওয়ার আশঙ্কা করছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার কাদাকাটি ইউনিয়নের মিত্র তেঁতুলিয়া মৌজায় গত কয়েক বছর ধরে ধান চাষে সাফল্য আসছিল। এবারও প্রায় ৭ হাজার বিঘা জমিতে ধানের আবাদ করা হয়েছে। কিন্তু গত সোমবার রাত থেকে স্থানীয় শফি সরদার, দীপঙ্কর সরকার ও রব্বানী সরদারসহ কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি স্লুইস গেট ব্যবহার করে বিলে লোনা পানি তোলা শুরু করেছেন।
ভুক্তভোগী একাধিক কৃষক জানান, ধান কাটার পর এসব জমিতে মাছ চাষ করা হয়। কিন্তু ধান পাকার আগেই লোনা পানি তোলায় ফসল নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে। কৃষি বিভাগ যখন ধানের আবাদ বাড়াতে উৎসাহিত করছে, তখন কিছু ব্যক্তির এমন কর্মকা-ে ক্ষোভ জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
এদিকে ঘূর্ণিঝড় আম্পান ও ইয়াস পরবর্তী লোনা পানির অভিশাপ কাটিয়ে প্রতাপনগর ইউনিয়নে গত দুই বছরে ‘সবুজ বিপ্লব’ ঘটেছিল। ইউপি চেয়ারম্যান আবু দাউদ ঢালীর উদ্যোগে লোনা পানি মুক্ত করে হাজার হাজার বিঘা জমিতে ধান ও সবজি চাষ শুরু হয়।
তবে অভিযোগ উঠেছে, ৫ নম্বর ওয়ার্ডের খেয়াঘাট এলাকার স্লুইস গেট দিয়ে শাহাদাৎ হোসেনের নেতৃত্বে একটি চক্র জোর করে লোনা পানি ঢোকাচ্ছে। এতে প্রতাপনগর দক্ষিণ বিলের প্রায় ১ হাজার বিঘা জমির ধান তলিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি এলাকায় স্থায়ী জলাবদ্ধতার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। বাধা দিতে গেলে কৃষকদের হেনস্তা করার অভিযোগও উঠেছে।
প্রতাপনগর ইউপি চেয়ারম্যান আবু দাউদ ঢালী বলেন, “কষ্ট করে ইউনিয়নকে লোনা পানি মুক্ত করেছিলাম। এখন লোনা পানি ঢুকলে ধান তো নষ্ট হবেই, পুরো পরিবেশ বিষাক্ত হয়ে যাবে। আমি বিষয়টি প্রশাসনকে জানিয়েছি।”
এ বিষয়ে আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইদুজ্জামান হিমু বলেন, “বিষয়টি সম্পর্কে আমরা অবগত হয়েছি। লিখিত অভিযোগ পেলে দ্রুত তদন্ত করে লোনা পানি তোলা বন্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
Leave a Reply