
কাজী সোহাগ পাইকগাছা: আমের ভালো ফলন নিশ্চিত করতে প্রস্ফুটিত মুকুলের সঠিক পরিচর্যা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মুকুল আসার পর আমের হপার পোকা এবং এনথ্রাকনোজ রোগ দমনে কীটনাশক ও ছত্রাকনাশকের মিশ্রণ স্প্রে করা জরুরি। ভালো ফলন পেতে বাগান মালিক ও আম চাষীরা আম বাগান পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছে।
পাইকগাছার কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় ১০টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার মধ্যে ৪টি ইউনিয়ন গদাইপুর, হরিঢালী, কপিলমুুনি, রাড়ুলী ও পৌরসভা ছাড়া বাকী ইউয়িনগুলিতে একেবারে সীমিত আমের গাছ রয়েছে। উপজেলায় ৫৮৫ হেক্টর জমিতে আম গাছ রয়েছে। তাছাড়া বিভিন্ন ইউনিয়নে ছড়ানো ছিটানো আম গাছ আছে। আমের গুটি ঝরা রোধে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা সার্বক্ষণিক আম চাষী ও বাগান মালিকদের আমগাছ পরিচর্যায় পরামর্শ দিচ্ছে।
পাইকগাছা বড় আম বাগানের মালিক বিরাশির অখিলবন্ধু ঘোষ, গদাইপুরের সামাদ ঢালী, সনাতন কাঠির আমিন সরদার, মোবারক ঢালী, গোপালপুরের আবুল হোসেন দৈনিক আজকের সাতক্ষীরা দর্পণ এর প্রতিনিধিকে বলেন, তাদের রুপালী, বোম্বাই লতা ও হিম সাগরসহ বিভিন্ন জাতের আমের গাছ রয়েছে। বাগানের আম গাছে গাছে মুকুল ভরে গেছে এবং পরিচর্যা নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছে। গদাইপুর গ্রামের আম চাষী মোবারক ঢালী বলেন, বাগান পরিচর্যায় আম গাছে কীটনাশক সাইপারমেথ্রিন ১০ইসি, রিপকর্ড, ছত্রাকনাশক কার্বনডাজিম ৫০ডব্লিউ জি ও ভিটামিন পিজিআর ম্যাশিনের সাহায্যে গাছে স্প্রে করছেন। এ বছর আমের ভালো ফলনের আশা করছে তিনি। বড় ধরনের কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ না ঘটলে আমের বাম্পার ফলনের আশা করছে আম চাষী ও বাগান মালিকরা।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ একরামুল হোসেন জানান, আম গাছে প্রচুর পরিমানে মুকুল ধরেছে। মুকুলের স্বাস্থ্য রক্ষায় এবং ঝরা রোধে গৌণ খাদ্য উপাদান হিসেবে বোরন বা জিংক সালফেট ব্যবহার করা যেতে পারে। মুকুল থেকে আমের গুটি মটরদানার মতো হওয়ার পর নিয়মিত পানি সেচ দিতে হবে। ভালো ফলন পেতে বাগান মালিক ও আম চাষীরা আম বাগান পরিচর্যা করছেন। বড় কোন ধরনের প্রাকৃতিক বিপর্যয় না হলে, তিনি আমের ভালো ফলন আশা করছেন।
Leave a Reply