
আজকের সাতক্ষীরা দর্পণ ডেস্ক: সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার ডেইরি ফার্মের আড়ালে গোপনে গড়ে উঠেছে একাধিক নকল দুধের কারখানা। স্থানীয় খামারিরা গরু পালনের আড়ালে ক্ষতিকর রাসায়নিক মিশ্রিত ভেজাল দুধ উৎপাদন করছেন। এই দুধ কেবল স্থানীয় বাজারে বিক্রি হচ্ছে না, বরং বড় কোম্পানির সংগ্রহ কেন্দ্রে পৌঁছে ব্র্যান্ডের নামে বিক্রি হচ্ছে। ফলে সাধারণ ভোক্তারা বুঝতে পারছেন না যে তারা আসলে খাঁটি দুধের পরিবর্তে বিষাক্ত ভেজাল দুধ ব্যবহার করছেন।
স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, এই দুধে ডিটারজেন্ট, তেল, সোডা ও হাইড্রোজেন পার-অক্সাইড মেশানো হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, এই ধরনের রাসায়নিক দীর্ঘমেয়াদে কিডনি, লিভার, পাকস্থলী ও হৃদরোগের মতো মারাত্মক সমস্যার কারণ হতে পারে। শিশু ও বৃদ্ধদের জন্য এর প্রভাব বিশেষভাবে ক্ষতিকর। আশাশুনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, প্রতিদিনই ভেজাল খাদ্যজনিত অসুস্থতার কারণে রোগীরা হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন।
স্থানীয় সমাজকর্মীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। একজন বলেন, “দুধের নামে মানুষকে বিষ খাওয়ানো হচ্ছে। প্রশাসনের কার্যকর নজরদারি না থাকলে এ প্রবণতা কখনও বন্ধ হবে না।” স্থানীয়দের অভিযোগ, মাঝে মাঝে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান হলেও কচুয়া অঞ্চলের এই কারখানাগুলোর ওপর বড় ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। অপর দিকে দু সংগ্রহ কারী প্রতিষ্ঠানগুলো নেই কোন জবাবদিহিতা বা নজরদারির আওতায়।
ব্যবসায়ীরা আগের মতোই দুধে ক্ষতিকর রাসায়নিক মিশিয়ে উৎপাদন চালিয়ে যাচ্ছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি শুধু একটি স্থানীয় স্বাস্থ্যঝুঁকি নয়; এটি সমগ্র আশাশুনি ও আশেপাশের এলাকার জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি। ভেজাল দুধের ব্যবহার কেবল ব্যক্তির স্বাস্থ্যের ক্ষতি করছে না, বরং এর মাধ্যমে এক ধরনের সামাজিক অবনতি এবং ভোক্তা অধিকার লঙ্ঘনও ঘটছে।
সমাধানের জন্য বিশেষজ্ঞরা সুপারিশ করছেন, স্থানীয় পর্যায়ে আধুনিক পরীক্ষাগার স্থাপন করা এবং দুধ ক্রয়কারী কোম্পানিগুলোর ওপর কঠোর নজরদারি ও নিয়মিত মান পরীক্ষা চালানো। প্রশাসনকে অবশ্যই কঠোর আইন প্রয়োগের মাধ্যমে এই ধরনের কারখানাগুলো বন্ধ করতে হবে এবং দুধ সরবরাহ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে।
নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধি ও নিয়মিত অভিযানের মাধ্যমে দুধে ভেজাল রোধ করা সম্ভব। আশাশুনির মানুষদের জন্য এটি এখনই একটি সতর্কবার্তা: স্বাস্থ্যকে প্রাধান্য দিতে না পারলে সাধারণ মানুষ মারাত্মক রোগের কবলে পড়তে পারে। প্রশাসন ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে দায়িত্ব নিয়ে কাজ করা ছাড়া সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়।
Leave a Reply