
জি এম রাজু আহমেদ নিজস্ব প্রতিনিধি: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে শ্যামনগরের নুরনগর ইউনিয়ন জামায়াতের উদ্যোগে সাবেক সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী গাজী নজরুল ইসলামের নির্বাচনী জনসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (৩ জানুয়ারি) বিকাল ৩টায় নুরনগর ইউনিয়নের নবীন সংঘ মাঠে এ জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর ডা. রুহুল আমিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সাবেক এমপি গাজী নজরুল ইসলাম।
সভায় বিশেষ অতিথি ও বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা জামায়াতের অফিস সম্পাদক মাওলানা রুহুল আমিন, জেলা জামায়াত কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যাপক আব্দুল জলিল, শ্যামনগর উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা আব্দুর রহমান, নায়েবে আমীর মাওলানা মঈন উদ্দিন মাহমুদ, নায়েবে আমীর ফজলুল হক এবং সেক্রেটারি মাওলানা গোলাম মোস্তফা। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন হিন্দু ছাত্র পরিষদের জেলা যুগ্ম আহ্বায়ক পরিতোষ মন্ডল এবং হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের জেলা ছাত্রনেতা পরিতোষ কুমার মন্ডল।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে গাজী নজরুল ইসলাম বলেন, দেশ আজ চাঁদাবাজ, দখলবাজ ও দুর্নীতিবাজদের কারণে গভীর সংকটে নিপতিত। এই অবস্থা থেকে উত্তরণে সৎ ও যোগ্য নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার কোনো বিকল্প নেই। তিনি বলেন, আগামী নির্বাচনে জনগণের রায়ে একটি নতুন, ন্যায়ভিত্তিক ও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।
তিনি তার সংসদ সদস্য থাকাকালীন সময়ের উন্নয়ন কর্মকান্ডের কথা তুলে ধরে বলেন, নুরনগরসহ শ্যামনগরের বিভিন্ন ইউনিয়নে যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়ন, রাস্তাঘাট সংস্কার, শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান উন্নয়নে বাস্তবমুখী কাজ করা হয়েছিল। উন্নয়ন বরাদ্দ যেন প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে পৌঁছে-সে বিষয়ে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হয়েছিল বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
আগামী পরিকল্পনা তুলে ধরে তিনি বলেন, জনগণ যদি আবারও তাকে সংসদে যাওয়ার সুযোগ দেয়, তাহলে নুরনগর ইউনিয়নের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা এবং সামাজিক সম্প্রীতি রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
সভায় বক্তারা বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় জনগণের ভোটাধিকার ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় একটি গ্রহণযোগ্য বিকল্প শক্তি প্রয়োজন। তারা আগামী নির্বাচনে ন্যায়, সততা ও জনকল্যাণের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার জন্য ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানান।
জনসভায় নুরনগর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা থেকে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ অংশগ্রহণ করেন। তাদের উপস্থিতিতে নবীন সংঘ মাঠ জনসমুদ্রে পরিণত হয় এবং নির্বাচনী পরিবেশ আরও উজ্জীবিত হয়ে ওঠে।
Leave a Reply