
কলারোয়া প্রতিনিধিঃ কলারোয়া উপজেলায় থামছেই না অবৈধ মাটি ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্য। উপজেলার বিভিন্ন সড়কে দিন-রাত অবাধে চলাচল করছে মাটি বহনকারী ট্রলি গাড়ি। ভেকু মেশিন দিয়ে ফসলি জমির মাটি কেটে ট্রলির মাধ্যমে বিভিন্ন ইটভাটায় সরবরাহ করা হচ্ছে। জমির মালিকদের নগদ টাকার লোভ দেখিয়ে এক শ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ী ফসলি জমির মাটি কিনে নিচ্ছে, যা পরে ইটভাটাসহ বিভিন্ন নির্মাণ কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে।
এছাড়াও ফসলি জমিতে বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নির্মাণের জন্য ব্যাপকভাবে এসব মাটি কেনাবেচা চলছে। ফলে দিন দিন নষ্ট হচ্ছে উর্বর কৃষিজমি, হুমকির মুখে পড়ছে কৃষি উৎপাদন।
জানা গেছে, কলারোয়া উপজেলার জালালাবাদ ইউনিয়নের বাটরা গ্রামের মেম্বারের জমির মালিকদের কাছ থেকে মাটি কিনে দীর্ঘদিন ধরে এই অবৈধ ব্যবসা চালিয়ে আসছেন। বর্তমানে তিনি বাটরা গ্রাম এলাকায় ভেকু দিয়ে ফসলি জমির মাটি কেটে ট্রলি গাড়ির মাধ্যমে এলাকার বিভিন্ন ব্যক্তি ও ইটভাটায় বিক্রি করছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, কোনো অজ্ঞাত ক্ষমতার ছত্রছায়ায় দীর্ঘদিন ধরেই মাটি খাদকরা নির্বিঘ্নে এই অবৈধ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে।
উপজেলার প্রায় ১২টি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় সড়কজুড়ে মাটি বোঝাই ট্রলি গাড়ির চলাচল লক্ষ্য করা যাচ্ছে। প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সকলের চোখের সামনেই দীর্ঘদিন ধরে এই অবৈধ মাটি ব্যবসা চললেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মোজম্বার ছাড়াও কুশোডাঙ্গা ইউনিয়নের হাসান, মুরালীকাটি গ্রামের কিরণ, কয়লা ইউনিয়নের বাবু মেম্বার, সাদ্দাম, লাল্টুসহ আরও অনেকে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ ভেকু ও ট্রলি ব্যবহার করে মাটি ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে।
স্থানীয়রা জানান, কলারোয়া উপজেলার প্রায় সর্বত্রই অবাধে চলছে অবৈধ ভেকু ও ট্রলি গাড়ি। এতে এলাকার মানুষ ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। প্রভাবশালী মহলের সহযোগিতায় মাটি ব্যবসায়ীরা দিনের পর দিন এই অবৈধ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ভেকু ও ট্রলি গাড়ির শব্দে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে জনজীবন।
ট্রলি চলাচলের কারণে গ্রামীণ সড়কগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সড়কের ওপর মাটি পড়ে থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তা পিচ্ছিল হয়ে পড়ছে, ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। গত কয়েক বছরে উপজেলায় মাটি বহনকারী ট্রাক্টর ও ট্রলির চাপায় একজন কলেজ শিক্ষক, একজন পুলিশ সদস্য এবং সম্প্রতি কলারোয়া সরকারি কলেজের এক শিক্ষার্থীসহ কয়েকজনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে।
সারাদিন ভেকু ও ট্রলি চলাচলের ফলে চারপাশে ধুলোবালি ছড়িয়ে পড়ছে, পরিবেশ মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে। এতে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছে শিশু ও বৃদ্ধরা। শব্দদূষণের কারণে স্বাভাবিক জীবনযাপনও প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠেছে। এ বিষয়ে সাধারণ মানুষ অভিযোগ করলেও অদৃশ্য কারণে কোনো প্রতিকার পাচ্ছেন না। ফলে থামছেই না মাটি ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্য, দিন দিন বাড়ছেই ফসলি জমি ধ্বংসের ভয়াবহতা।
Leave a Reply