সাতক্ষীরাতে সরকারের নির্ধারিত দামে মিলছে না গ্যাস


আজকের সাতক্ষীরা দর্পণ ডেস্ক: সাতক্ষীরা সুলতানপুর বড় বাজারে কাজ করেন ইসমাইল মিয়া। দুপুরে রান্না শেষ না হতেই গ্যাস ফুরিয়ে যায় তার বাড়িতে। কর্মস্থল থেকে বাড়ি ফিরে ছুটে যান সন্ধ্যায় গ্যাসের দোকানে। সরকার নির্ধারিত মূল্য বের করে গ্যাস কিনতে গিয়ে বিপাকে পড়েন ইসমাইল। পরে পরিচিত দোকান হওয়ায় কিছু টাকা ধার নিয়ে বাড়তি দামে ১৫৪০ টাকা দিয়ে গ্যাস নিয়ে যান বাড়িতে। ছেলে মেয়ে স্ত্রীকে নিয়ে তার সংসার। কাজ করেন মুদি দোকানে। বেতনের বেশির ভাগ টাকা চলে যায় থাকা ও খাওয়ার কাজে। এদিকে সরকার সরকার নির্ধারিত গ্যাস মূল্য ধার্য করা হয়েছে ১৩৪১ টাকা। কিন্তু এই মূল্যে বাজারে কোথাও মিলছে না গ্যাস। শহরের আরেক বাসিন্দা সুমন। চাকরির সুবাদে থাকেন শহরের ভাড়া বাসাতে। এদিকে নতুন বিয়ে ও করেছেন তিনি। সংসারের লোকের চাপে প্রতি মাসে গ্যাস খরচ হচ্ছে একটার ও বেশি। ফলে এতো বেশি দামে গ্যাস ক্রয় করে রান্না করে তিনি ও বউ নিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন। এতো দামে গ্যাস কিনে সংসার চালানো তার জন্য অনেক কষ্টকর হয়ে যাচ্ছে বলেন তিনি। সরকার যে মূল্য দিয়েছে সেই মূল্যে কোথাও পাওয়া যাচ্ছে না গ্যাস। ফলে বিপাকে পড়তে হচ্ছে সাধারণ মানুষের। সব সময় সাধারণ মানুষই বিপাকে পড়ে দিনশেষে। এদিকে প্রশাসন ও দেখা যায় চুপচাপ দেখে যাচ্ছে।
সচেতন মহলের দাবি, প্রশাসন যদি প্রতিনিয়ত বাজার তদারকি করে তাহলে গ্যাসের দাম সঠিক পাওয়া যাবে বলে মনে করছেন তারা। পাশাপাশি অতিরিক্ত মূল্য আদায়কারীদের বিরুদ্ধে যেন দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে।
সাতক্ষীরা জেলা এলপি গ্যাস ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করে বলেন, সাতক্ষীরা শহরের দৈনিক চাহিদার চার ভাগের এক ভাগ ও গ্যাস সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে। যারা কিছু গ্যাস সরবরাহ করছেন, তারাও নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দাম নিচ্ছেন। কাজেই সংকট না কাটলে দাম নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না বলে বলছেন তারা।
শহরের মুনজিতপুর এলাকার এলপিজি গ্যাস ব্যবসায়ী বাবু জানান, কোম্পানি থেকে সরবরাহ না থাকায় তারা গ্যাস বিক্রি করতে পারছেন না। তিনি আরও জানান কোম্পানি থেকে চাহিদার তুলনায় খুবই কম গ্যাস পাঠানো হচ্ছে। দ্রুত এই সংকট নিরসন না হলে মানুষের ভোগান্তি আরো বাড়বে বলে জানান তিনি। শহরের হোটেল মালিক আব্দুল আহাদ জানান, কৃত্রিম সংকট তৈরী করে এলপিজি গ্যাসের দাম বাড়ানো হয়েছে। যে কারণে বেশিরভাগ হোটেল মোটেলে গ্যাস কিনতে সরকার নির্ধারিত মূল্য অপেক্ষা ৪-৫শ, টাকা বেশি খরচ করতে হচ্ছে।
সাতক্ষীরা জেলা এলপি গ্যাস ডিস্ট্রিবিউটর এসোসিয়েশনের সাধারন সম্পাদক মো. রাশেদুজ্জামান রাশি বলেন, এই মাসে আমাদের গ্যাস সিলিন্ডার আসছে ২ চালান। অনেক চেষ্টার পর মাসের প্রথম এক গাড়িতে ৩০০ পিচ সিলিন্ডার পেয়েছি। কিন্তু চাহিদা বেশি থাকায় দ্রুত এই গ্যাস ফুরিয়ে যায়। পরে আবার আমরা আমরা গাড়ি পাঠিয়ে দুই দিন অপেক্ষার পর আবার ও আমাদের আরেক চালানে গ্যাস সিলিন্ডার পেয়েছি ৫০০। সব মিলিয়ে আমরা এ মাসে গ্যাস সিলিন্ডার পেয়েছি ৮০০ যেখানে আমাদের প্রতি মাসে গ্যাস সিলিন্ডার লাগে ৩০০০ বেশি। আমাদের চাহিদা মত গ্যাস সরবরাহ না পাওয়ায় সংকটের সৃষ্টি হয়েছে।
তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, আমাদের ও তো সরকার নির্ধারিত মূল্যে গ্যাস বিক্রি করতে ইচ্ছে করে কিন্তু আমরা কোম্পানি থেকে সরকার নির্ধারিত মূল্যেও চেয়ে বেশি দামে গ্যাস ক্রয় করছি। ফলে আমাদের গাড়ি ভাড়া, গোডাউন ভাড়া, ডলভার ভাড়া, অফিস ভাড়া দিয়ে আমাদের ও বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। সরকার যদি আমাদের কোম্পানিদের সাথে একটু সমন¦য় করতে পারে তাহলে আমরা ওই মূল্যে বিক্রি করতে পারবো।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের সহকারী পরিচালক মেহেদী হাসান তানভীর বলেন, সাতক্ষীরা জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর সরকার নির্ধারিত এলপিজি গ্যাসের ধার্যকৃত মূল্যে বাস্তবায়নে সাতক্ষীরা জেলার বিভিন্ন গ্যাসের ডিলার পয়েন্ট, খুচরা বিক্রেতার দোকানে তদারকি করা হয়েছে এবং জরিমানা করে আদায় করা হয়েছে। এছাড়া মূল্য তালিকা দৃশ্যমান স্থানে প্রদর্শনের ব্যাপারেও ব্যবসায়ীদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি আমাদের এ অভিযান চলমান রয়েছে।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *