
নিজস্ব প্রতিনিধি: আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার লক্ষ্যে সাতক্ষীরা-১ আসনে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে নির্বাচনি লড়াইয়ে টিকে আছেন ৫ প্রার্থী।
প্রার্থীরা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় সঙ্গে জমা দিয়েছেন তাদের হলফনামা। সাতক্ষীরা-১ আসনের নির্বাচনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকা দুই প্রার্থীর হলফনামা পর্যালোচনা করে দেখা গেছে প্রতিপক্ষ জামায়াত দলীয় প্রার্থী অধ্যক্ষ ইজ্জত উল্লাহর চেয়ে নগদ অর্থ ও সম্পদে অনেক এগিয়ে বিএনপি প্রার্থী হাবিবুল ইসলাম হাবিব। তবে অধ্যক্ষ ইজ্জত উল্লাহর চেয়ে তার স্ত্রীর নামে নগদ টাকা বেশি। পাশাপাশি মামলায় ও এগিয়ে আছেন জামায়াতের প্রার্থী।
বিএনপি প্রার্থী হাবিবুল ইসলাম হাবিবের অস্থাবর ও স্থাবর সম্পদ রয়েছে ৪ কোটি ৯২ লাখ ৬৭ হাজার টাকার। যার মধ্যে নগদ অর্থ ৫০ লাখ ৬০ হাজার টাকা হলফনামায় উল্লেখ করেছেন তিনি। এর মধ্যে স্ত্রীর কাছ থেকে দান হিসেবে পেয়েছেন ৩০ লাখ টাকা।
এছাড়া বাড়ি ভাড়া, ব্যবসা ও কৃষিখাত থেকে তার বার্ষিক আয় ১৯ লাখ ২৩ হাজার ৪৮২ টাকা। ১০ লাখ ৭ হাজার মূল্যের ২. ১১ একর কৃষি জমি, ৪ লাখ ৫ হাজার টাকা মূল্যের ৫২.৭৫ একর অকৃষি জমি এবং পৈত্রিক সূত্রে প্রাপ্ত ২ লাখ টাকা মূল্যের ২.৬৬ একর কৃষি এবং ২ লাখ ৭৫ হাজার টাকা মূল্যের ১৩ শতক অকৃষি জমির মালিক তিনি। একই সঙ্গে ঢাকার বনানীতে ৩ কোটি ৭ লাখ টাকা মূল্যের একটি ৬ তালা বাড়ি ও ধানমন্ডির সাগরিকা কনকর্ডে ৪৩ লাখ ১০ হাজার টাকা মূল্যের একটি আবাসিক ফ্লাটের মালিক হাবিবুল ইসলাম হাবিব। এছাড়া সাতক্ষীরার কলারোয়ার ১০ লাখ টাকা মূল্যের তার একটি দ্বিতল বাড়ি রয়েছে। একটি ১৫ লাখ টাকার এফডিআরসহ স্ত্রীর নামে ১৮ লাখ ৩০ হাজার টাকার সম্পদ রয়েছে। স্ত্রীর বার্ষিক আয় ৭ লাখ ৩ হাজার ৯২৭ টাকা। ব্যাংকে দায় আছে ২৩ লাখ ৮৭ হাজার ৭৯৮ টাকা। স্ত্রীর দায় আছে ১২ লাখ ৫৪ হাজার ৭৮৭ টাকা।
অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অধ্যক্ষ ইজ্জত উল্লাহর অস্থাবর ও স্থাবর সম্পদের পরিমাণ ৩৫ লাখ ৯০ হাজার ৫৩৯ টাকা। এর মধ্যে নগদ অর্থ আছে ১৫ লাখ ২৩ টাকা। আর ব্যবসা, কৃষিখাত, এফডিআর ও মূলধনী লাভ থেকে তার বার্ষিক আয় ৭ লাখ ৩৫ হাজার ৭৫১ টাকা। এর মধ্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় বায়তুলমাল থেকে ভাতা পান ৬ লাখ ৬৬ হাজার ১৮৬ টাকা। এছাড়া তিনি এক একর কৃষিজমির মালিক। সাতক্ষীরা শহরে তার একতলা একটি বাড়ি রয়েছে। যার নির্মাণকালীন ব্যয় ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৪২ হাজার ১৫৮ টাকা। এছাড়া কলারোয়া উপজেলার ফয়জুল্যাপুর গ্রামে একটি একতলা বাড়ি রয়েছে, যার নির্মাণকালীন ব্যয় ধরা হয়েছে ৫০ হাজার টাকা। তবে তার স্ত্রীর নামে কোম্পানির শেয়ার রয়েছে ২ লাখ ৮৭ হাজার ৮০ টাকার এবং সঞ্চয়পত্র রয়েছে ৩৮ লাখ ৮৯ হাজার ১১৪ টাকা বলে উল্লেখ করেছেন তিনি।
প্রার্থীদের হলফনামা পর্যালোচনা করে আরও দেখা যায়, বিএনপি প্রার্থী হাবিবুল ইসলাম হাবিব এমএসসি পাশ। তার নামে ৮টি মামলা ছিল; যার প্রত্যেকটি থেকে তিনি বেকসুর খালাস বা অব্যাহতি পেয়েছেন।
এদিকে জামায়াতের প্রার্থী অধ্যক্ষ ইজ্জত উল্লাহ এমএসসি পাশ। তিনি একজন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক। তার বিরুদ্ধে ৪১টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে একটি মামলা বিচারাধীন, একটি উচ্চ আদালতে স্থগিত আছে। তিনটি মামলা সাক্ষীর জন্য রয়েছে। বাকি সব মামলার মধ্য থেকে বেশ কয়েকটি প্রত্যাহার করা হয়েছে। কিছু মামলা থেকে তিনি খালাস ও অব্যাহতি পেয়েছেন। তবে তিনি কোনো ফৌজদারি মামলায় অভিযুক্ত হননি।