সদর প্রতিনিধি: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে সাতক্ষীরা জেলার চারটি সংসদীয় আসনে ২৯ জন প্রার্থী তাঁদের মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) উৎসবমুখর পরিবেশে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে তাঁদের আবেদনপত্র দাখিল করেন।
সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মিজ আফরোজা আখতার। তিনি জানান, জেলাজুড়ে মোট ৩৩জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ২৯জন জমা দিয়েছেন। রিটার্নিং কর্মকর্তার দপ্তর থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, আসনভিত্তিক প্রার্থীদের তালিকা উল্লেখ করা হলো।
সাতক্ষীরা-১ (তালা-কলারোয়া): এই আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন মোট ৬ জন। তাঁরা হলেন—মো. হাবিবুল ইসলাম হাবিব (বিএনপি), মো. ইজ্জত উল্লাহ (জামায়াতে ইসলামী), জিয়াউর রহমান (জাতীয় পার্টি), শেখ মো. রেজাউল করিম (ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ), মো. ইয়ারুল ইসলাম (বাংলাদেশ কংগ্রেস) এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী এস এম মজিবর রহমান।
সাতক্ষীরা-২ (সদর-দেবহাটা): সদর আসনে জমা পড়েছে ৮টি মনোনয়নপত্র। প্রার্থীরা হলেন—মো. আব্দুর রউফ (বিএনপি), মুহাম্মাদ আব্দুল খালেক (জামায়াতে ইসলামী), মো. আশরাফুজ্জামান আশু (জাতীয় পার্টি-জিএম কাদের), জি এম সালাউদ্দীন (এবি পার্টি), মো. ইদ্রিস আলী (বাংলাদেশ জাসদ), শেখ মাতলুব হোসেন লিয়ন (জাতীয় পার্টি-হাওলাদার), মুফতী রবীউল ইসলাম (ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ) এবং শফিকুল ইসলাম শাহেদ (এলডিপি)।
সাতক্ষীরা-৩ (আশাশুনি-কালিগঞ্জ): এই আসনে লড়াইয়ে আছেন ৮ জন। এর মধ্যে বিএনপির একজন ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী রয়েছেন। প্রার্থীরা হলেন—কাজী আলাউদ্দীন (বিএনপি), হাফেজ মুহা. রবিউল বাশার (জামায়াতে ইসলামী), মো. আলিপ হোসেন (জাতীয় পার্টি), মো. শহিদুল আলম (স্বতন্ত্র-বিএনপির বিদ্রোহী), এম এ আসফউদ্দৌলা খান (স্বতন্ত্র), আসলাম আল মেহেদী (স্বতন্ত্র), রুবেল হোসেন (বিএমজেপি) এবং মো. ওয়েজ কুরনী (ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ)।
সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর): এই আসনে জমা পড়েছে ৭টি মনোনয়নপত্র। প্রার্থীরা হলেন—মো. মনিরুজ্জামান (বিএনপি), জি এম নজরুল ইসলাম (জামায়াতে ইসলামী), মো. আব্দুর রশীদ (জাতীয় পার্টি-জিএম কাদের), এইচ এম গোলাম রেজা (গণঅধিকার পরিষদ), হুসেইন মুহাম্মদ মায়াজ (জাতীয় পার্টি-হাওলাদার), এস এম মোস্তফা আল মামুন (ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ) এবং মো. আব্দুল ওয়াহেদ (স্বতন্ত্র)।
রিটার্নিং কর্মকর্তা মিজ আফরোজা আখতার বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রশাসন সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। কাল ৩০ ডিসেম্বর থেকে ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের কাজ চলবে।’
ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২০ জানুয়ারি। চূড়ান্ত তালিকা ও প্রতীক বরাদ্দ হবে ২১ জানুয়ারি এবং ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ১২ ফেব্রুয়ারি।