
আজকের সাতক্ষীরা দর্পণ ডেস্ক: সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক (ডিসি) মিজ আফরোজা আখতার বলেছেন, “বিগত নির্বাচনের ইতিহাস বাংলাদেশের জন্য একটি কলঙ্কিত অধ্যায়। আমরা আর সেই পথে হাঁটতে চাই না। একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আমরা জাতির সামনে এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে চাই।”
রোববার সকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে জেলা আইনশৃঙ্খলাবিষয়ক মাসিক সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন, যানজট নিরসন এবং মাদক নির্মূলসহ বিভিন্ন বিষয়ে একাধিক কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে ডিসি সতর্ক করে বলেন, নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। প্রার্থীদের কেউ নিয়ম ভাঙলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাদের স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নির্বাচনকালীন শৃঙ্খলার বিষয়ে তিনি আরও বলেন, আনসার বাহিনীর সদস্যদের কোনো রাজনৈতিক দল খাবার সরবরাহ করতে পারবে না। পোলিং এজেন্টদের বিষয়ে কোনো অভিযোগ থাকলে তাৎক্ষণিকভাবে প্রশাসনকে জানাতে হবে।
সভায় জেলা পুলিশ ও সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকেও নিরাপত্তার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাজু আহমেদ জানান, জেলায় ৬০৯টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ২৩টি কেন্দ্রে যাতায়াত ব্যবস্থা কিছুটা দুর্গম, যা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য চ্যালেঞ্জ হতে পারে। একই সঙ্গে তিনি মাদকবিরোধী অভিযান ও যানজট নিরসনে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় কঠোর হওয়ার ঘোষণা দেন। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৩৭ বীর-এর অধিনায়ক জানান, নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনী সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়ানো রোধে সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান।
পৌর এলাকার শৃঙ্খলা বিষয়ে সভায় সিদ্ধান্ত হয়, পৌরসভার অনুমোদন ছাড়া কোনো বিলবোর্ড, ব্যেনার বা তোরণ স্থাপন করা যাবে না। শহরের পাকাপোল থেকে নিউমার্কেট পর্যন্ত অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদে দ্রুত অভিযান চালানো হবে। এ ছাড়া গ্যাস সংকট নিরসনে বাজার মনিটরিং জোরদার করার সিদ্ধান্ত হয়। ভূমিহীনদের পুনর্বাসনের কাজ নির্বাচনের পরপরই শুরু হবে বলে জানান জেলা প্রশাসক।
রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিনিধিদের মধ্যে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক রহমাতুল্লাহ পলাশ প্রশাসনের নিরপেক্ষ ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। জেলা জামায়াতের আমির শহিদুল ইসলাম মুকুল শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিতের দাবি জানান।
সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মাসুদুর রহমান, র্যাব ক্যাম্প কমান্ডার, বিজিবি অধিনায়কসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধি ও সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা। উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সভাপতি আবুল কাশেমসহ নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা।