
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: দখলদার ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে ইরান আক্রমণ করার পর সংঘাত ছড়িয়ে পড়েছে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে। পারস্য উপসাগরের তীরবর্তী প্রায় সব রাষ্ট্রই জ্বলছে। এতে শুধু প্রাণহানী ও অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতিই হচ্ছে না, ধসে যাচ্ছে পর্যটন শিল্পও। মারাত্বকভাবে ব্যাহত হচ্ছে খাদ্য উৎপাদন।
আজ মঙ্গলবার (৩ মার্চ) চতুর্থ দিনের মতো যুদ্ধ অব্যাহত থাকায় খাবার সংকট দেখা দিতে পারে- এ আশঙ্কায় খাদ্য রপ্তানি নিষিদ্ধ করেছে ইরান। যুদ্ধকালীন ব্যবস্থা হিসেবে এ পদক্ষেপ নিয়েছে দেশটি।
ইরান সব খাদ্য ও কৃষিপণ্য রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেছে বলে আধা-সরকারি তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে।
সরকারি এক বিবৃতির বরাত দিয়ে সংবাদ সংস্থাটি জানায়, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সব খাদ্য ও কৃষি পণ্য রপ্তানি নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
এতে আরও বলা হয়, সরকার জনগণের জন্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ নিশ্চিত করাকে অগ্রাধিকার দিয়েছে।
ইরানের খাদ্যের আমদানিকারক কারা
ইরান তার ভৌগোলিক অবস্থান এবং বৈচিত্র্যময় কৃষি পণ্যের জন্য বিশ্বের অনেক দেশেই খাদ্য ও কৃষি পণ্য রপ্তানি করে। ২০২৪-২৫ সালের সাম্প্রতিক তথ্য এবং ইরানি শুল্ক প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, দেশটি থেকে খাদ্য আমদানি করা দেশগুলোর শীর্ষে আছে ইরাক।
ইরানের কৃষি ও খাদ্য পণ্যের সবচেয়ে বড় বাজার হলো ইরাক। দেশটি ইরান থেকে প্রচুর পরিমাণে দুগ্ধজাত পণ্য, ফলমূল, সবজি এবং প্রক্রিয়াজাত খাবার আমদানি করে।
দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আমদানিকারক দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাত। দেশটি ইরান থেকে তাজা ফল, শুকনো ফল ও জাফরান আমদানি করে। এছাড়া তারা অনেক পণ্য ইরান থেকে নিয়ে পুনরায় অন্য দেশে রপ্তানি করে।
এরপরই আছে চীনের নাম। দেশটি ইরান থেকে মূলত প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, বাদাম (বিশেষ করে পেস্তা), জাফরান ও সামুদ্রিক মাছ আমদানি করে।
ইসলামি প্রজাতন্ত্রের আরেক গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার রাশিয়া। দেশটির সঙ্গে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইরানের খাদ্য বাণিজ্য অনেক বেড়েছে। রাশিয়া মূলত ইরানের গ্রিনহাউস সবজি, ফল ও জলজ পণ্য আমদানি করে।
এছাড়া ভারত, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, জার্মানি, ইতালি, স্পেন, তুরস্ক, ওমান, কাতার, কাজাখস্তান, তুর্কমেনিস্তানও ইরান থেকে প্রচুর খাদ্য ও কৃষি পণ্য আমদানি করে থাকে। এসব দেশ ইরান থেকে বিস্কুট, মিষ্টি, চকলেট, শুকনো ফল, বিশেষ করে খেজুর, পেস্তা, জাফরানসহ নানা পণ্য কেনে।
সূত্র: আলজাজিরা।