1. nokhatronews24@gmail.com : ajkarsatkhiradarpan darpan : ajkarsatkhiradarpan darpan
  2. install@wpdevelop.org : sk ferdous :
সাতক্ষীরায় অর্ধেকে নেমেছে খেজুরের রস-গুড় উৎপাদন - আজকের সাতক্ষীরা দর্পণ
বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৩:২৮ পূর্বাহ্ন
২৯শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ খবর :
📰১২ ফেব্রুয়ারির ভোটে পর্যবেক্ষকরা যা করতে পারবেন, যা পারবেন না📰সাতক্ষীরায় নির্বিঘ্ন ভোট নিশ্চিতে পুলিশ সুপারের কেন্দ্র পরিদর্শন📰কালীগঞ্জ রতনপুর রেড ক্রিসেন্ট ও স্কাউটের মেধাবী ছাত্র তানভীর রেজার এমবিবিএস ডিগ্রি অর্জন📰সাতক্ষীরা জেলায় সাংবাদিক কার্ড ইস্যু করার পরে আবার কার্ডটি বাতিল করলেন জেলা প্রশাসক📰আশাশুনিতে ৩৩টি ঝুকিপূর্ণসহ সরঞ্জাম পৌছেছে সবকেন্দ্রে📰সাতক্ষীরায় ককটেল ও গুলিসহ যুবক গ্রেপ্তার📰সাতক্ষীরা-৩ আসনে ভোটের সমীকরণ জটিল📰সাতক্ষীরা-৩ আসনের ধানের শীষের প্রার্থীর জনসভা অনুষ্ঠিত📰সাতক্ষীরার কালিগঞ্জের নাজিমগঞ্জ বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৪ দোকান পুড়ে ছাই 📰সাতক্ষীরা জেলা আইন শৃঙ্খলা বিষয়ক মাসিক সভা অনুষ্ঠিত

সাতক্ষীরায় অর্ধেকে নেমেছে খেজুরের রস-গুড় উৎপাদন

প্রতিবেদকের নাম :
  • হালনাগাদের সময় : শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারি, ২০২৬
  • ৩৩ সংবাদটি পড়া হয়েছে

আজকের সাতক্ষীরা দর্পণ ডেস্ক:  শীতের কমে যাওয়ায় ও আবহাওয়ার পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবে সাতক্ষীরায় খেজুরের রস ও গুড় উৎপাদন আশঙ্কাজনক হারে কমে যাচ্ছে। একসময় শীত এলেই গ্রামাঞ্চলে উৎসবমুখর পরিবেশে শুরু হতো খেজুরের রস সংগ্রহ ও গুড় তৈরির মৌসুম। তবে বর্তমানে সেই চিরচেনা দৃশ্য অনেকটাই হারিয়ে যেতে বসেছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সাতক্ষীরা জেলায় প্রায় ২৩০ হেক্টর জমিতে এক লাখ ৮ হাজারের বেশি খেজুর গাছ রয়েছে। এসব গাছ থেকে নিয়মিত রস সংগ্রহ করা গেলে বছরে ২ হাজার থেকে ২ হাজার ২০০ মেট্রিক টন গুড় উৎপাদনের সম্ভাবনা থাকলেও বাস্তবে তা নেমে এসেছে মাত্র ৮০০ থেকে ৯০০ মেট্রিক টনে। অর্থাৎ উৎপাদন প্রায় অর্ধেকে কমে গেছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক সাইফুল ইসলাম দৈনিক আজকের সাতক্ষীরা দর্পণ এর প্রতিনিধিকে বলেন আবহাওয়ার পরিবর্তনের কারণে শীতের সময়কাল কমে গেছে। এতে গাছিরা সময়মতো গাছ কাটতে পারছেন না, আবার অনেক কৃষকও আগ্রহ হারাচ্ছেন। ফলে খেজুরের রস ও গুড় উৎপাদন দিন দিন কমছে।
তিনি আরও জানান, সব গাছ থেকে নিয়মিত রস সংগ্রহ করা গেলে জেলার চাহিদা মিটিয়ে দেশের অন্যান্য জেলাতেও গুড় সরবরাহ করা সম্ভব হতো। এতে কৃষকদের আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নয়ন ঘটত। তবে বর্তমানে যে পরিমাণ উৎপাদন হচ্ছে, তা জেলার চাহিদা মিটিয়ে সীমিত পরিসরে অন্য জেলায় যাচ্ছে।
সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ২নং কুশখালী ইউনিয়নের শিকড়ী এলাকার গাছি মো: আব্দুর রশিদ বলেন, আগে শীত অনেক আগে আসতো, এখন অনেক দেরিতে আসে। এতে গাছ কাটতেও দেরি হয়। আবহাওয়ার কারণে রসও কম হচ্ছে। আগে ১৫ থেকে ১৬টা গাছে ১০থেকে ১২টা হাঁড়ি রস পাওয়া যেত, এখন সেখানে মাত্র ৩ থেকে ৪টা হাঁড়ি পাওয়া যায়। তিনি আরোও জানান, আগে খেজুর গাছের গোড়ায় পানি জমে থাকত না। বর্তমানে প্রায় সব জায়গাতেই পানি জমে থাকে, যা রস উৎপাদনের বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। খেজুরের রস পুরোপুরি শীতের ওপর নির্ভরশীল। কাশেমপুর এলাকায় বাসিন্দা মোঃ শফিকুল ইসলাম বলেন, একসময় আমাদের এলাকায় প্রচুর খেজুর গাছ ছিল। এখন গাছের সংখ্যাই কমে গেছে। অনেক কৃষক আর গাছ কাটেন না, আবার অনেক জায়গায় গাছ কেটে ফেলা হচ্ছে। ফলে রসের সংকট তৈরি হয়েছে। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, শীতের মৌসুমে পিঠা পুলির উৎসব, খেজুরের রস সবই এখন আগের মতো নেই। আমরা চাই খেজুর গাছ সংরক্ষণ করে এই ঐতিহ্য আবার ফিরিয়ে আনা হোক।
সাতক্ষীরা সদর উপজেলার বকচারা গ্রামের বাসিন্দা মোঃ হাসানুজ্জামান বলেন, ছোটবেলায় দেখতাম বাবা চাচারা খেজুর রস কাটতেন। গাছের নিচে গিয়ে পাটকাঠির নল দিয়ে রস খেতাম। এখন আর সেই দৃশ্য দেখা যায় না।
অন্য এক গাছি বলেন, তিনি বলেন, আগে একটি গাছে এক ভার রস হতো, এখন তার অর্ধেকেরও কম। রস কম হলে গুড়ও কম হয়। বর্তমানে অনেকেই খেজুর গাছ জ্বালানির কাজে ব্যবহার করছে, যা খেজুর শিল্পের জন্য বড় হুমকি। আগের মতো গাছিও নেই। নতুন করে এই পেশায় কেউ আসতে চাই না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিকল্পিতভাবে খেজুর গাছ সংরক্ষণ, গাছিদের প্রশিক্ষণ প্রদান এবং সরকারি উদ্যোগ বাড়ানো গেলে সাতক্ষীরায় আবারও খেজুরের রস ও গুড় উৎপাদন বৃদ্ধি পেতে পারে এবং হারিয়ে যেতে বসা এই গ্রামীণ ঐতিহ্য নতুন করে ফিরিয়ে আনা সম্ভব।

আপনার সামাজিক মিডিয়ায় এই পোস্ট শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর :

সম্পাদক মণ্ডলীর সভাপতি:

এম এ কাশেম (পিএইচডি -গবেষক,এডুকেশন-মালেশিয়া) এম এ ক্রিমিনোলজি, এমবিএ-লন্ডন।).....01748159372

সম্পাদক ও প্রকাশক:

মো: তুহিন হোসেন (বি.এ অনার্স,এম.এ)...01729416527

© All rights reserved © 2020-2025
প্রযুক্তি সহায়তায়: csoftbd