দেবহাটায় লকডাউনে শোচনীয় অবস্থায় উপজেলা পর্যায়ের পত্রিকা পরিবেশকরা


কে এম রেজাউল করিম দেবহাটা: চলমান করোনা পরিস্থিতিতে লকডাউন ও বৃষ্টি উপেক্ষা করে বাইসাইকেলের প্যাডেল মেরে অথবা পায়ে হেঁটে পত্রিকা বিক্রি করেন বিক্রেতারা। আবার অনেকেই মোটরসাইকেল ও রিক্সায় পত্রিকা বিক্রি করেন। বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে তাদের অবস্থা শোচনীয় হয়ে পড়েছে। তবে তাদের পাশে সরকারি-বেসরকারি কোন সংস্থায় এখনো দাঁড়ায়নি।

এমন অবস্থায় আয়-রোজগারের বিপর্যয় ঘটায় দেশের অন্যান্য এলাকার মতো মানবেতর জীবন যাপন করছেন সাতক্ষীরা জেলার দেবহাটা উপজেলার

পত্রিকা বিক্রির সঙ্গে জড়িত ১০-১২ জন এজেন্ট ও বিক্রয় প্রতিনিধি। তাদের বেশির ভাগই সামান্য আয়-রোজগার। এখন তাও বন্ধের পথে। দোকানে দোকানে এবং বাড়িতে বাড়িতে জীবনের ঝুকি নিয়ে পাঠকের কাছে পত্রিকা নিয়ে ছুটে যান তারা।

এদিকে প্রায় সবকটি জাতীয় পত্রিকা গণসচেতনতায় বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানিয়েছেন, করোনাভাইরাস পত্রিকার কাগজের মাধ্যমে ছড়ায় না। তারপরও বিক্রি তেমন বাড়েনি। এরমধ্যে আবার করোনা ভাইরাসের কারণে কঠোর লকডাউনে জাতীয় ছুটি থাকায় অফিস আদালত ও দোকানপাট বন্ধ রয়েছে। পত্রিকার বিল তুলতেও হকারদের বর্তমান পরিস্থিতিতে নানা বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে। সময়মত পাওনা না পেয়ে অনেকেই পরিবার পরিজন নিয়ে নিদারুণ কষ্টে দিন কাঁটাচ্ছেন। মোটরসাইকেল, বাইসাইকেল ও পায়ে হেঁটে বিক্রি করতেন বিক্রেতারা; সেটাও লকডাউনের কারণে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় সেটাও অল্প সংখ্যক পত্রিকা বিক্রয় হয়।
বৃহস্পতিবার সকালে ( ৮ই জুলাই) কথা হয় কয়েকজন পত্রিকা বিক্রয় প্রতিনিধির সাথে। তার মধ্যে দেবহাটা উপজেলার সখিপুর ইউনিয়নের মাঘরী গ্রামের আলাউদ্দিন নামে একজন বিক্রেতাকে বাইসাইকেলে পত্রিকা বাঁধতে দেখা যায়।

তার সাথে কথা হলে তিনি জানান, ভোরের আলো ফোঁটার সাথে সাথে পত্রিকা সংগ্রহ করে বাইসাইকেলে নিয়ে ছুটে বেড়ান উপজেলার এক প্রান্ত থেকে আরেক উপজেলা পর্যন্ত।

দেবহাটা উপজেলা হতে পারুলিয়া বাজার হয়ে গাজিরহাট বাজার, নওয়াপাড়া দেবহাটা সদর, টাউন শ্রীপুর, পর্যন্তু তিনি পত্রিকা নিয়ে বাইসাইকেলে বিক্রি করেন। তিনি বাইসাইকেল চালিয়ে কমপক্ষে ২০টি পয়েন্টে পত্রিকা বিক্রি করেন। প্রায় আসা যাওয়া দিয়ে প্রতিদিন ৩০ কিলোমিটার সাইকেল চালাতে হয় তার। তিনি আরো জানান, লকডাউন থাকার কারণে দোকানপাট বন্ধ থাকায় সেটাও ঠিকমত করতে পারছেন না। তারপরও আবার বৃষ্টির মৌসুম। ১৮ বছর ধরে পত্রিকা বিক্রি করে কোনোমত চলছে তার পরিবার নিয়ে জীবন জীবিকা। তবে করোনাভাইরাস সংক্রামনের আগেই ভালো যাচ্ছিল তার জীবন জীবিকা।
আলাউদ্দিন বলেন ২০০৩ সালে এই ব্যবসার সাথে জড়িত হই। সে এই ব্যবসার মাঝেই বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। বাবা, মা, স্ত্রীসহ দুই মেয়ে এক ছেলে রয়েছে তার সংসারে। সহায় সম্পত্তি বলতে ভিটেমাটি ছাড়া কিছু নেই। আবার তিনটি সন্তানের লেখাপড়ার খরচ চালাতে হয় তার। সব মিলে তিনিসহ সবাই কোনো রকম দীনপাত করছেন। তিনি বলেন, এ উপজেলায় করোনাভাইরাসের আগে প্রায় ১০০০ পত্রিকা চলতো। এখন সেখানে মাত্র ৪০০ পত্রিকা আনতে হয়।

,

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *